বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অবরোধের প্রথম দিনে হাজীগঞ্জে বিক্ষিপ্ত ঘটনা

আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, বাস সিএনজি ভাংচুর; আহত চার : আটক ৭

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:২৩ পিএম
আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, বাস সিএনজি ভাংচুর; আহত চার : আটক ৭

অবরোধের প্রথম দিনে হাজীগঞ্জে বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে চলছে। বিএনপি ও জামায়াতের ডাকে টানা তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিন হাজীগঞ্জে যানবাহন চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক।

অবরোধের প্রথম দিনে হাজীগঞ্জ উপজেলার সেন্দ্রা বাজারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সভাপতি সহ চারজন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় হাজীগঞ্জ রামগঞ্জ সড়কের সেন্দ্রা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

Model Hospital

এসময় বিএনপি- আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ৬ নং বরকুল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মজুমদার খোকন মুন্সী, আহসান হাবীব, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নেওয়াজ শরিফ, ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুম গাজী আহত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন ও গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জ সার্কেল পঙ্কজ কুমার ও হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের তিনটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৯ টার দিকে বিএনপি কর্মীরা হাজীগঞ্জ- রামগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা অবরোধের পক্ষে পিকেটিং করছিলো। এক পর্যায়ে যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও তা প্রতিরোধ করতে আসে। এরই মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পরে পুলিশের অভিযানে ১০ নং গন্ধব্যপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শেখ ফরিদ সুমনের দোকানের কর্মচারী সারোয়ার ও সারোয়ারের ভাতিজা তোফায়েলকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপির ব্যানারে হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে অবরোধের পক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ১০/১২ মিনিট সড়কে অবস্থান করে দ্রুত সটকে পড়ে।

অন্যদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. মাঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে অবরোধের বিপক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি হাজিগঞ্জ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে টোরাগড় ঘুরে এসে পুনরায় হাজিগঞ্জ মধ্যবাজারে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এছাড়া হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বির নেতৃত্বে অবরোধের বিপক্ষে সড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জীবন ও ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতা জে এইচ নিরুকে সড়কে মহড়া দিতে দেখা যায়।

দুপুর দেড়টার দিকে হাজীগঞ্জ মধ্যবাজার সোনালি ব্যাংকের সামনে দুর্বৃত্তরা দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়। তাৎক্ষণিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ মোহন গাজীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ধাওয়া করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে একটি ঢাকাগামী সুরমা সার্ভিস ও ১টি যাত্রীবাহী সিএনজি ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এছাড়া পুরো উপজেলাজুড়ে পুলিশের পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের শতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গিয়েছে।

এদিকে নাশকতা এড়াতে গত ২৪ ঘন্টায় হাজীগঞ্জে ৭ বিএনপি নেতা কর্মীকে আটক করেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, নাশকতা এড়াতে সাত বিএনপি নেতা কর্মী কে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ভুট্টু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন দুলাল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরাদিন লারা, যুবদল নেতা শাহ আলম ও ইমাম হোসেন। তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।