শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

যুব শক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে : ডিসি কামরুল হাসান

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০২৩, ১০:৩০ পিএম
যুব শক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে : ডিসি কামরুল হাসান
‘স্মার্ট যুব, সমৃদ্ধ দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে চাঁদপুরে জাতীয় যুব দিবস ২০২৩ পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক, সনদপত্র বিতরণ এবং জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী কর্মকান্ডে যুবকদের ভূমিকা শীর্ষক জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে আশিকাটি যুব ভবনের হল রুমে জাতীয় এ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবেদ শাহ্ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশের মানুষ দেশে সহজ কাজকে গুরুত্ব না দিয়ে বিদেশে গিয়ে কঠিন কাজকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আমাদের দেশে যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে রেখেছে সরকার। যুবকদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, তেমরা হয়তো এখনো বাবার ঘাড়ে বসে খাচ্ছো কিন্তু আগামী ৫-৭ বছর পর তো ঠিকই সংসারের দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যাদের নিজেদের জায়গা আছে তারা মাছ চাষ সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো। ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান সময়ের যুবকদের আবেগে গাঁ ভসিয়ে দিলে চলবে না, আরো সচেতন হতে হবে। নিজেকে স্বাবলম্বী করতে হবে। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের তো আর সরকারি চাকরি হবে না। কিছু সংখ্যক মানুষের হবে।
অন্যদের হতে হবে উদ্যোক্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রবাসী, কৃষিজীবী, শ্রমীক সহ অন্যান্য পেশা। আমাদের দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই সে দক্ষতাকে যুবকরা কাজে লাগাতে হবে। অপার সম্ভাবনাময় যুব শক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার যুবদের কর্মসংস্থানের জন্যে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ কার্যকর সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষক আহসান উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীমা চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাখাওয়াত জামিল সৈকত। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কফিল উদ্দিন। প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন মোমিন বকাউল।
দিবসটি উপলক্ষে ১৩ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে যুব ঋণের চেক বিতরণ সহ বিভিন্ন মেয়াদী কোর্সে উত্তীর্ণ প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সিয়াম প্রধানীয়া ও গীতা পাঠ করেন সুব্রত সেন। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে একটি র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’