শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দলীয় সভায় সিদ্ধান্ত

চাঁদপুর -৩ আসনে জাতীয় পাটির প্রার্থী হচ্ছেন প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩, ৯:৫১ পিএম
চাঁদপুর -৩ আসনে জাতীয় পাটির প্রার্থী হচ্ছেন প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা জাতীয় পাটির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর।

২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের একটি অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জাতীয় পাটি, জেলা, সদর ও পৌর কমিটির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জরুরি এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মাওঃ জাকির হোসেন হিরুর সভাপতিত্বে ও পৌর জাতীয় পাটির সদস্য সচিব ফেরদৌস খানের পরিচালনায় উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর, পৌর জাতীয় পাটির আহবায়ক আলহাজ্ব শাহআলম মিজি, সদর উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান, জেলা জাতীয় পাটির সহ সভাপতি শাহজাহান মাতাব্বর, জেলা জাতীয় পাটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলামুন্নবী লিটন, ইব্রাহিম দেওয়ান স্বপন, গোলাম মোস্তফা, যুব বিষয়ক সম্পাদক হান্নান ঢালী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম শাহরিয়ার, জেলা জাতীয় পাটির নেতা বাদল হাওলাদার, জেলা শ্রমিক পাটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নান্নু ভুইয়া, সহ সভাপতি মমিন বেপারী, সদর উপজেলা জাতীয় পাটির নেতা মুনছুর আহমেদ, আঃ সামাদ পৌর জাতীয় পাটির নেতা আরমান চৌধুরী, বাচ্চু মোল্লা, গোলাম সারোয়ার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

উক্ত সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সিদ্ধান্তের আলোকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর -৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

Model Hospital

এ বিষয়ে প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের চাহিদা ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে প্রার্থী হচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আজ ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে থেকে মনোনয়ন পএ উওোলন করবো।

এজন্য তিনি চাঁদপুর -৩ আসনের জনগণের দোয়া চান ও সহযোগিতা কামনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’