শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩৪ পিএম
কচুয়ায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আকাশ রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে টিউবয়েল প্রতীক গ্রহণ করছেন।

মো: রাছেল : আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন। ২০ ডিসেম্বর সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে চেয়ারম্যান পদে ৬৬, সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে ১শ ২০ ও সাধারণ সদস্য পদে ৫শ ১৯ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে মিছিলে মিছিলে মুখরিত করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন। প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইতে চলে গেছেন স্ব-স্ব ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে। তাছাড়া ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুস ছালাম সওদাগর ব্যতীত অন্য প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এবং ১নং সাচার ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৩নং আসনের (৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) মহিলা সদস্য পদে আফিয়া খাতুন ব্যতীত অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন:
১নং সাচার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিন্নত আলী তালুকদার নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ইমরান হোসেন চৌধুরী হাতপাখা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন ঘোড়া এবং এসএম শুভ চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২নং পাথৈর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়াজী নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ইয়াছিন মিয়া হাতপাখা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল ঘোড়া, গোফরান উদ্দিন টেলিফোন, তারেক অটোরিকসা, আক্কাস আলী মোল্লা আনারস, মো. মকবুল হোসেন চশমা, মিজানুর রহমান চৌধুরী রজনীগন্ধা ও সোলাইমান লিটন মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩নং বিতারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লা আল মামুন নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী রহমত উল্লাহ হাতপাখা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক শিকদার ঘোড়া, ইসমাইল হোসেন আনারস, আবুল কালাম আজাদ চশমা এবং শহীদ উল্লাহ ভূইয়া মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Model Hospital

৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ: আহাদ নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী দুলাল হোসেন হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম হোসেন মোটরসাইকেল, মো. মাসুদুর রহমান আনারস, হাবিবুর রহমান ঘোড়া, মনির হোসেন চশমা ও আলমগীর হোসেন স্বপন অটোরিকসা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ।

৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানা হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ সামাদ আজাদ আনারস, সাইফুর রহমান বাহাদুর ঘোড়া, শাহিন আলম মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৬নং কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন নৌকা, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার নাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. মহিবুল্লাহ হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম আনারস ও নেছার আহমেদ চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৭নং কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলী আসগর নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল হোসাইন হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিমউদ্দীন লিটন আনারস, সৈয়দ রবিউল ইসলাম রাসেল ঘোড়া, মিজানুর রহমান মিয়াজী মোটর সাইকেল, আরিফুজ্জামান চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৮নং কাদলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম লালু নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী সোহেল আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হাই মোটর সাইকেল, মোহাম্মদ নূর ই আলম আনারস ও আ: হান্নান খান ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১০নং গোহট উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কবির হোসেন নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী কবির হোসেন হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিন উদ্দীন আনারস, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ঘোড়া, প্রদীপ চন্দ্র দাস চশমা, পারভেজ মুন্সি মোটর সাইকেল ও আবদুল মমিন অটোরিকসা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১১নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমির হোসেন নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাহবুব আলম কুদ্দুছ হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলাউদ্দীন মোটর সাইকেল, খোরশেদ আলম চশমা ও মো. ইউনুছ মিয়া আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১২নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মোজাম্মেল হক হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম আনারস, রেজাউল মাওলা হেলাল ঘোড়া, মো. মারুফ আহমেদ মোটর সাইকেল, মো. ইদ্রিস পাটওয়ারী টেলিফোন, মো. মাসুদ আলম চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’