বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজে জমজমাট পিঠা উৎসব

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪, ৯:৪৭ পিএম
ফরিদগঞ্জের শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজে জমজমাট পিঠা উৎসব
পিঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের একটি ধারক। তবে নগরায়ণের প্রভাবে পিঠা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। নগর সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যাওয়া পিঠা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে পৌষের শেষ দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে  পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার  ২৫ ( জানুয়ারি) সকাল  ৯ টায় পিঠা উৎসবের সূচনা হয়। দিনব্যাপী চলে এই উৎসব
এ উপলক্ষে স্কুল আঙ্গিনা জুড়ে শীতের পিঠার মিষ্টি গন্ধে ভরপুর ছিল। আর এ গন্ধে মুখর হয়ে শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-শিক্ষক যোগ দিয়েছিলেন পিঠা খাওয়ার উৎসবে।
পৌষ-মাঘের হাত ধরে, পিঠা উৎসব এলো ফিরে এ  স্লোগানে ফরিদগঞ্জের শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উৎসবে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি করা প্রায় শতাধিক পদের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
দারুণ এ আয়োজন দেখতে ও পিঠার স্বাদ নিতে শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজ  ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণা। বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা মানুষজন হৃদয় হরণ, মাছ পিঠা, ফুলি পিঠা, নারিকেল পিঠা ও পাটি সাপটাসহ নানান ধরণের পিঠার স্বাদ নিয়েছেন।
ফুলে সজ্জিত ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী জুয়েল। এ সময় অধ্যক্ষ মো. আরিফুর রহমান, দাতা সদস্য আবু হাসনাত নয়ন পাটওয়ারী, শফিউল আযম শুকু পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পিঠার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।
নিজ হাতে বানানো শতাধিক পিঠার পসরা সাজিয়ে ১৬ স্টল নিয়ে বসেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পিঠা উৎসব ঘুরে আদি বাংলা পিঠা ঘর, গ্রাম বাংলার পিঠা ঘর, লাল সবুজের বাংলা পিঠা ঘরসহ বিভিন্ন নামে ১৬ টি দোকান দেখা যায়।
এতে ডাল পাকন, শুকনা পিঠা, লতা পিঠা, শামুক পিঠা, সাকুর পিঠা, সেমাই পিঠা , পাটি সাপটা, পান্তুয়া, জেলি কেক, বরফি, দুধ চিতল, ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, ঝুনঝুনি পিঠা, মুগ পাকন, ক্ষীর পাটি সাপটা, লবঙ্গ ও নারিকেল বেলি পিঠাসহ শতাধিক পিঠা দেখা গেছে। একেকটির স্বাদ একেক রকম। একেকটি দোকানে প্রায় ৩০ ধরণের পিঠা থাকলেও অনেকেই এসব পিঠার সাথে অপরিচিত।
পিঠা উৎসব দেখতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ পৌষ মাসে পিঠা উৎসব হয়ে থাকে। তবে শীত মানেই বাড়িতে বাড়িতে পিঠা উৎসব। যদিও এখন আর গ্রাম ছাড়া শহরে পিঠা দেখা যায় না। খাওয়াতো অনেক দূরে, অনেক পিঠার নামও এখন মনে পড়ে না। এখন শহরের মানুষের একমাত্র ভরসা রাস্তার পাশে বানানো চিতই আর ভাপা পিঠা। মফস্বল শহরেও একই অবস্থা। শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজিত পিঠা উৎসব প্রশংসনীয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে  শীতকালে আমরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আসছি। সবগুলো পিঠা অভিভাবকদের সহযোগীতায় শিক্ষার্থীরা বানিয়েছে। এবার প্রতিটি স্টলেই নতুন নতুন ধরণের পিঠা দেখছি। আয়োজনটি শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে উপভোগ করছে।
শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নাছিরুল ইসলাম চৌধুরী জুয়েল বলেন, পিঠা উৎসব অসাধারণ একটি আয়োজন ছিল। আমি প্রত্যেকটি স্টল ঘুরে দেখেছি। সত্যিই আমি অভিভূত। স্টলগুলোতে এতো পিঠা উঠেছে, এরমধ্যে অনেক পিঠার নাম আমি নিজেও জানি না। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধারণে এ আয়োজন প্রশংসনীয়।  এ উৎসবটি পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।