রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে চলাচলের পথ বন্ধ করে জোরপূর্বক বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪, ১০:১৯ পিএম
মতলব দক্ষিণে চলাচলের পথ বন্ধ করে জোরপূর্বক বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর বাড়ৈগাঁও গ্রামের ইব্রাহীম প্রধানিয়া বাড়িতে দীর্ঘদিনের পুরনো পারিবারিক চলাচলের পথ জোরপূর্বক স্থাপনা (বিল্ডিং) নির্মাণ করে বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির জামাল প্রধানের বিরুদ্ধে। বাড়িতে প্রবেশের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো চলাচলের এ রাস্তা দখল করে জোড়পূর্ক বিল্ডিং নির্মাণের ফলে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে ওই বাড়ির ১৫টি পরিবারের। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ নির্মিতব্য ভবনের নকশা ও জায়গা নিয়েও বিরোধ রয়েছে জামালের সাথে।

ভুক্তভোগি একই বাড়ির আক্তারুজ্জামান ওরফে রোলু প্রধান, টিপু প্রধান, পলাশ প্রধান, রাজু প্রধান, আসাদুজ্জামান প্রধান, আজাদ প্রধান, কাউছার প্রধান, সবুজ প্রধান, মিজান প্রধান, শরীফ প্রধান ও একই বাড়ির মরহুম অলিউল্লাহ প্রধানের সৌদী প্রবাসী ছেলে রানা প্রধানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য একাধিক ব্যক্তি জানান, জামাল প্রধান দীর্ঘদিনের পুরনো বাড়ির পারিবারিক পথ বন্ধ করে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করার সময় তাকে বাঁধা দেওয়া হলেও তিনি জোরপূর্বক চলাচলের পথ বন্ধ করে বিল্ডিং নির্মাণ করে। এতে বাড়ির ১৫টি পরিবারে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পারিবারিক চলাচলের রাস্তা ও বিরোধপূর্ণ জমিজমা নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযুক্ত জামাল প্রধান নিজেই উক্ত শালিসী বৈঠকের দিন তারিখ ঠিক করেন। কিন্তু বৈঠকের দিন তিনি নিজেই গাঁঢাকা দিয়ে শালিসী বৈঠকে উপস্থিত হননি।

শালিসী বৈঠকে উপস্থিত আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, হাজী আব্দুল মতিন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ উপস্থিত স্থানীয় একাধিক শালিসীগণ স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে চলাচলের পথ বহালের জোড় দাবী জানান। এসময় তারা আরও জানান, অভিযুক্ত জামাল শালিসী বৈঠকের দিন তারিখ ঠিক করে তিনি নিজেই গাঁঢাকা দেওয়া ঠিক হয়নি। জমি সংক্রান্ত ঝামেলা থাকতে পারে কিন্তু বাড়ির পারিবারিক চলাচলের পথ খোলা রাখা অতি জরুরী।

অভিযুক্ত জামাল প্রধানের বড় ভাই আলমগীর প্রধান জানান, প্রতিপক্ষদ্বয় ও আমরা একই বাড়ির মানুষ। আমার বাবা-চাচাদের মাঝে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। কিন্তু বাড়ির চলাচলের পথের সমস্যা অবশ্যই সমাধান হওয়া উচিৎ।

Model Hospital

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল প্রধান জানান, সাড়ে সাত ফুট পথের জায়গা রেখে আমার নিজের জায়গায় বিল্ডিং করেছি।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।