শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নৌকা ও আনারসের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে আহত ২৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৪২ পিএম
ফরিদগঞ্জে নৌকা ও আনারসের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে আহত ২৫

ফরিদগঞ্জে নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের হামলায় ভাঙ্গচুরকৃত মোটর সাইকেল।

এস. এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে আনারস মার্কার সমর্থনে আয়োজিত মোটর সাইকেল শোভাযাত্রায় নৌকা মার্কার সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজার এলাকায় চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৫/২০ জন আহত হয়েছে এবং অন্তত ২০ টি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় আহত এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদের খোকন একটি মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন শোভাযাত্রাটি গৃদকালিন্দিয়া কলেজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌকার প্রার্থীর মিছিলের মুখোমুখি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে ১৫/২০ জন আহত হন এবং অন্তত ২০ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। আহতরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের বিষয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের খোকন বলেছেন, আমরা শোভাযাত্রা নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম গৃদকালিন্দিয়া কলেজ এলাকায় পৌঁছলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শরীফ খান এবং তার সমর্থকরা আমাদের অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। তারা আমাদের অন্তত ৩০ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও অন্তত ২০/২৫ জনকে আহত করেছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই তান্ডব দেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি মামলা করবো।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম আহমেদ বলেন, আমরা শরীফ খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিচার চাই।
এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শরীফ খান জানান, আমি প্রতিদিনের ন্যায় কর্মীরাসহ বাজারে গণসংযোগের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম, মহাসড়কে উঠলে আনারস প্রতীকের প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা আমার কর্মীদের উপর হামলা করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। আমি এ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদ হোসেন বলেন, আচরণ বিধি লংঘন করে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করছিলো আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবদুল কাদের খোকন ও তার সমর্থকরা। সেখানে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌকার মিছিলের মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমি তাৎক্ষণিকফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।

তিনি আরো জানান, সংঘর্ষে কিছু মোটর সাইকেল ভাংচুর ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’