শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে ভষ্মিভূত আ’লীগ নেতার দোকান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:৩৮ পিএম
শাহরাস্তিতে রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে ভষ্মিভূত আ’লীগ নেতার দোকান

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে এক ইউপি আ’লীগ নেতার দোকান ভষ্মিভূত হয়েছে । ওই সংবাদ পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মান্নান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত আ’লীগ নেতা গৌতম চন্দ্র পাল শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির সুরসুই এলাকায় পাল বাড়ি সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড আ”লীগের সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমকর্মী ডাঃ গৌতম চন্দ্র পাল দীর্ঘদিন ধরে ওই জনপদে (আরএমপি) ডাক্তার হিসেবে স্থানীয়দের সেবা প্রদান করে আসছেন। ওই হিসেবে ব্যক্তি গৌতম পালের প্রতি স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি টামটা উত্তর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড আলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত হন। ওই হিসেবে সম্প্রতি ২৬-ডিসেম্বরের চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে সেখানে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন ।

২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরের দিন কতিপয় স্থানীয় দুর্বৃত্ত তার পুত্র মানিক চন্দ্র পালকে সাসিয়ে যায়। ওই সময় তিনি বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে শুক্রবার অন্য দিনের মতো রাতের বেলায় তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক বারোটার সময় পথচারীদের চিৎকারে তিনি ছুটে এসে দেখেন কে বা কারা তার দোকানে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তিনি হতভম্ব হয়ে ছুটে এসে স্থানীয়দের এবং শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে তার দোকানে রক্ষিত মালামাল ভস্মীভূত হয়। ওই দোকানে রক্ষিত ঔষধ, বিকাশের মুঠোফোন নগদ টাকাসহ ৫-৬ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতিসাধন হয় ।

Model Hospital

এই ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত আ’লীগ নেতা গৌতম বলেন, আমি একজন নিরীহ মানুষ, স্থানীয় ভাবে গ্রামীণ মানুষকে চিকিৎসা প্রদান করে থাকি। মানুষের ভালোবাসায় আ’লীগের রাজনীতিতে নিজেকে যুক্ত করেছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার সর্বস্ব কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আশাকরি প্রশাসন বিষয়টি সুনজরে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’