শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ তারিখের নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী বিদ্রোহী প্রার্থীদের লাল কার্ড দেখাবে : ডা. ওয়াদুদ টিপু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৭ পিএম
৫ তারিখের নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী বিদ্রোহী প্রার্থীদের লাল কার্ড দেখাবে : ডা. ওয়াদুদ টিপু
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার মাঝি হাইমচর উপজেলার ২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান পাটোয়ারী কে বিজয় করার লক্ষে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ জানুয়ারি সোমবার বিকাল ৪ঘটিকায় উত্তর আলগী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আমানুল্লাহ বরকন্দাজ এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রনির পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু।
তিনি বলেন, আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনেছেন, ডা. দীপু মনির কথা শুনেছেন। হাইমচরের মানুষ আওয়ামীলীগকে ভালো বাসেন।আওয়ামীলীগের পাশাপাশি ডা. দীপু মনিকে ভালো বাসেন। সেটা প্রমান করেছেন বিভিন্ন সময়ে আপনাদের ভোটের মাধ্যমে। আতিক পাটোয়ারীকে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন। আপনারা ৫ তারিখে মনে করবেন শেখ হাসিনাকে ভোট দিচ্ছেন, আপনারা মনে করবেন ডা. দীপু মনিকে ভোট দিচ্ছেন। ভাই, বোন, বাড়ির সবাই মিলে আতিক পাটওয়ারীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত দিনে আওয়ামীলীগেরটা খেয়ে অনেক শক্তি জমিয়েছেন। নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন। এ ৫ তারিখের নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী বিদ্রোহী প্রার্থীদের লাল কার্ড দেখাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারী, ২নং উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আতিকুর রহমান পাটোয়ারী।
আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুল্লাহ মানিক, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন পাটোয়ারী প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ অালী মাঝি, এড. সাইফ উদ্দিন বাবু, হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম জাহিদসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’