শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা'র

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বহু অভিযোগ

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:১৬ পিএম
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বহু অভিযোগ

►ভর্তিতে অনিয়ম ও রসিদবিহীন টাকা উত্তোলন
► শিক্ষকদের বেতন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ
► অর্থ আত্মসাৎ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঠাকুরবাজারে অবস্থিত শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলাল আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একের পর এক মনগড়া সিদ্ধান্ত, অদূরদর্শিতা ও নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিতর্কিত।

প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানান, উপজেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ মোঃ বেলাল আহমেদ যেন শেষ কথা। নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্য, রসিদ ছাড়াই অর্থ আদায়, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট কর্তনসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা প্রশাসকের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা দেন।

Model Hospital

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলোঃ
মোঃ বেলাল আহমেদ কোনো মোভমেন্ট রেজিস্টার মেইন্টেন করেন না। নিজের মনগড়া ভাবে মাদরাসায় আসা যাওয়া করেন। মাদ্রাসার ক্লাস তদারকি এবং পড়ালেখার বিষয়ে কোন খোজ খবরও নেন না। কাজে এদিক-সেদিক গিয়ে মাদরাসার কাজে গেছেন বলে চালিয়ে দেন। তিনি কোন ক্লাসে কখনই কোন ঘন্টা নেন না (পড়ান না)।  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন, তাদেরকে অনেক সময় অহেতুক হয়রানি করেন এবং অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষক মিটিংয়ে কোন শিক্ষক তার মতের বিপরীতে কোন কথা বললে তাকে মিটিং শেষে নিজের রুমে একলা ডেকে নিয়ে ধমক দেন এবং তাকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করেন। শিক্ষকদের বেতন স্কেল পরিবর্তন ও বিভিন্ন সরকারী সুবিধা দিতে সরকারি বিধি লংঘন করেন এবং এ সকল কাজের জন্য শিক্ষকদের নিকট থেকে জোর পূর্বক অর্থ আদায় করেন। কেউ দিতে না চাইলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করেন। মাদরাসায় জেডিসি, দাখিল ও আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে এবং মাদরাসার আয় থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে তাদের নাম, পদবী, ব্যাংক একাউন্ট ইত্যাদি সংশোধনের কথা বলে দুইবারে প্রায় লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন কাজই তিনি করেন নি। মিনিস্ট্রি অডিটের সময় শিক্ষকদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে ৩০০০০০ (তিন লক্ষ) হাতিয়ে নিয়েছেন। মাদরাসার টাকায় কিনা বিভিন্ন আসবাবপত্র নিজের বাসায় নিয়ে যান। সকল আয় রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করেন না। আয়ের টাকা সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা না দিয়ে হাতে রেখে খরচ করেন। মিথ্যা ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। একই খরচের জন্য কয়েকবার ভাউচার তৈরি করেন অপ্রদর্শিত আয় থেকে ব্যয় করে প্রদর্শিত আয় থেকে ভাউচার দিয়ে টাকা নেন। ২০২০ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকার ও ব্যবহৃত অংশ শিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেয়ার জন্য মাদরাসার বোর্ড মাদরাসার একাউন্টে উক্ত টাকা প্রেরণ করে। শিক্ষার্থীরা উক্ত টাকার জন্য অধ্যক্ষের নিকট গেলে তিনি শিক্ষার্থীদেরকে প্রাপ্য টাকা না দিয়ে তাদের সাথে অসদাচরণ করে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে মাদ্রাসায় গিয়ে পাওয়া না গেলে তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনার পর ফোনটি বন্ধ করে দেন।

লিখিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ ইয়াসির আরাফাত বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital