রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪, ৫:৫১ পিএম
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

চাঁদপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত

চাঁদপুর সদর উপজেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ত্রিপুরা (স্থানীয়ভাবে পরিচিত টিপরা) শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ত্রিপুরা জাতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন গৃহীত বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ৬ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল এবং ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত। তিনি বলেন, দক্ষ জনগোষ্ঠী এবং টেকসই উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় কোন গোষ্ঠীকে বাদ রেখে পুরোপুরি উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। যার কারণে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এক সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলো অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় তাদের জীবনমান অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাদের বাসস্থান করে দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৫ শ’ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করেন। তোমরা যারা শিক্ষার্থী রয়েছো তাদের মনে রাখতে হবে, এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নাই। মনযোগের সাথে লেখাপড়া করবে।

Model Hospital

এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ত্রিপুরা জাতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কর্নরাজ ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি সুখরঞ্জন ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক খোকন ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাখাল ত্রিপুরা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাবুল ত্রিপুরা, কম্পিউটার প্রশিক্ষক তানভীর হোসেনসহ ত্রিপুরা জাতির ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।