সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা

স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : তানভীর হুদা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:৩১ পিএম
স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : তানভীর হুদা
পতিত শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হলে দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্য ও সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হুদার জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা।
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭টি বছর স্বৈরাচার খুনি শেখ হাসিনা বিএনপিরসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গুম-খুন করে বাকরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা থেমে নেই। তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে।
তাদের মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে। কিন্তু তার ষড়যন্ত্র থেমে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে ব্যর্থ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, বিএনপি দিনের ভোট রাতে চায় না, বিএনপি বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন চায় না। বিএনপি ও তারেক রহমান চায়, আমার ভোট আমি দেবো।
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মান্নান লস্কর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সারোয়ার মজুমদার, সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব সাহ আলম ভূইয়া প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিল্লাল মৃধা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন,  বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন খান, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সৈয়দ গোলাম রাব্বানী মামুন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মোল্লা, ছেংগারচর পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মানিক ফরাজি প্রমুখ।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।