সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ইকবাল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁ/সির দাবিতে মানববন্ধন 

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:২৯ পিএম
ইকবাল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁ/সির দাবিতে মানববন্ধন 
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নে দেবর-ভাবির পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে একই এলাকার বখাটেদের মারধরের  ইকবাল হোসেন (২৩) নামে এক শ্রমিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে উপজেলার কালীরবাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, কালীরবাজারের ইব্রাহিম খানের জাহাজের ডগ এ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন নিহত ইকবাল হোসেন। তার সাথে বড়ভাই আনোয়ার হোসেন স্ত্রী ময়না বেগমের সাথে পরকীয় সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি আশেপাশের এবং তার গ্রামের কিছু লোকজন জেনে ফেলে পরবর্তীতে ময়না বেগমের মোবাইলটি কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায় এবং মোবাইলটির রেকর্ডিংয়ে পরকীয়া সংক্রান্তে কিছু কথাবার্তার তথ্য পাওয়া যায়।
গত ৭ নভেম্বর রাতে এই রেকর্ডের কথাগুলোকে কেন্দ্র করে ইকবাল হোসেন একই এলাকার মিল্লাত হোসেন, মো. সুজন, আরমান, সাব্বির সহ ৪/৫ জন বখাটে মিলে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। টাকা না দিলে রেকর্ডিংয়ের কথাবার্তা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। একপর্যায়ে ইকবাল হোসেনকে ডেকে কালির বাজার লঞ্চঘাটে মারধর করে তারা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় আবার ইকবাল হোসেনের ভাবি ময়না বেগমের কাছে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা। তিনি টাকা দিতে না পারায় ইকবাল হোসেনের মোবাইলটি নিয়ে যায় সুজন ও মিল্লাত হোসেন, সাব্বির, আরমান, মোবাইলের জন্য ইকবাল হোসেন তাদের কাছে গেলে আবারো মারধরের শিকার হন। সেখান থেকে ইকবাল হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক বলে তারা গভীরভাবে শোকাহত। এতে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী খুনিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে কাছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।