মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেড় যুগ পর শাহরাস্তিতে বড় পরিসরে জামায়াতের কর্মী সম্মেলন

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ৪:৫৪ পিএম
দেড় যুগ পর শাহরাস্তিতে বড় পরিসরে জামায়াতের কর্মী সম্মেলন
প্রায় দেড় যুগ পর ১১ জানুয়ারী (শনিবার) চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন। শাহরাস্তির নিজমেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কালিবাড়ি মাঠ প্রাঙ্গণে এই কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
দীর্ঘদিন পর সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে উপজেলা জুড়ে। পথে পথে লেগেছে পোস্টার-ব্যানার। মহাসড়কের উপরেও উড়ছে ব্যানার ফেস্টুন। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে কর্মসূচি করায় নেতারা যেমন আনন্দিত, অংশগ্রহণ করবার প্রত্যাশায় উচ্ছ্বসিত কর্মীরাও।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দমন-পীড়নের শিকার হয়ে প্রকাশ্যে জামায়াত কোনও কর্মী সম্মেলন করতে পারেনি শাহরাস্তিতে। তখন ছোট পরিসরে তাদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়েছে সংগঠনটি। গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের শেষ কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকাশ্যে কর্মী সম্মেলন কর্মসূচি দেয় জামায়াত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ জানুয়ারী শনিবার দলটি নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কালিবাড়ি  ময়দানে উপজেলা ও পৌর শাখার কর্মী সম্মেলনের কর্মসূচি করবে দলটি।
ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, ময়দানজুড়ে বাঁশের ছড়াছড়ি। মঞ্চ নির্মাণের সর্বশেষ কাজ করছেন শ্রমিকরা। অনেকে ব্যানার-পোস্টার লাগাতেও ব্যস্ত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ প্রায় ১৭/১৮ বছর পর সম্মেলন হচ্ছে। কর্মীরা আবেগাপ্লুত। গত ১৭ বছরে অনেক শহীদ ভাইকে হারিয়েছি। জামায়াতে ইসলামী তার কঠিন সময় পার করে আজ দীর্ঘ সময় পর শাহরাস্তিতে কর্মী সম্মেলন করবে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছি। আমরা প্রশাসন ও শাহরাস্তির মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের এই সম্মেলন সমাপ্ত করতে পারি।’
আগামী ১১ জানুয়ারীর কর্মী সম্মেলনে আরও উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোঃ মোবারক হোসেন, চাঁদপুর জেলা আমীর বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সাবেক আমীর আবদুর রহিম পাটোয়ারী, নায়েবে আমীর মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ঢাকা মহানগরী দক্ষিন এর সহকারী সেক্রেটারি মু.কামাল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহ সেক্রেটারি মু. জামাল হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি এড.শাহজাহান মিয়া, সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন সহ জেলা উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।