মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়া উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল আটক

মো. রাছেল, নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৪৩ পিএম
কচুয়া উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল আটক

অ্যাড. হেলাল উদ্দীন (ফাইল ছবি)।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল উদ্দীন (৫৫) কে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধবার (২২ জানুয়ারি ২০২৫) অ্যাড. হেলাল উদ্দীন ২০২২ সালের বিএনপির ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ভাংচুর ও চাঁদা দাবীর ঘটনায় দায়ের হওয়ায় মামলায় চাঁদপুরের কচুয়া আমলী আদালতে জামিন চাইতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দাস জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই অ্যাড. সোহাগ উদ্দীন।

তিনি আরো জানান, ওই মামলায় অ্যাড. হেলাল উদ্দীন উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। মঙ্গলবার ছিল তার শুনানির দিন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের বিএনপির ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ভাংচুর ও চাঁদা দাবীর ঘটনায় ৮৯জনের নামীয় ও অজ্ঞাত নামা ৫’শ জনের নামে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট রাতে উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে মতিউর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও সাবেক এমপি ড. সেলিম মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. হেলাল উদ্দীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব আলম ও সাবেক মেয়র নাজমুল আলম স্বপনসহ ৮৯জনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত ৫শত জনকে বিবাদী করা হয়। মামলা নং ৬/১২৭।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫এপ্রিল কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিকাল সাড়ে ৫টার সময় উক্ত অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বদরপুর এলাকায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী পৌছলে আওয়ামী লীগের ৪০/৫০ জন যুবক তাদের গাড়ি ও অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ভাংচুর করে এবং ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।

এ সময় অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং আসামীগন অস্ত্র, পিস্তল, রিভলবার ও শর্টগান দিয়ে আক্রমন করে ২৭জনকে জখম করে। আহতরা গৌরিপুর, মতলব ও হাজীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে। ঘটনারপর কচুয়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি।

গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় মামলা দায়ের করেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়। উক্ত মামলার স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ১৬জন। তন্মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন ও তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, আতাউল করিম, ওলিউল্যাহ, শিব্বির আহমেদ, কবির হোসেন, ওবায়েদ মুন্সি, জাকির হোসেন প্রমুখ।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।