মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় জমিজমা বিরোধের জেরে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ

কচুয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২১ পিএম
কচুয়ায় জমিজমা বিরোধের জেরে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ

কচুয়ায় দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জেরে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আশরাফপুর ইউনিয়নের উত্তরা আশ্রাফপুর গ্রামের জুমা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানাগেছে, ওই গ্রামের জুমা বাড়ির মৃত সৈয়দ আহমেদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও খোরশেদ আলমের সাথে বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে গতকাল শনিবার সকালে মোস্তফা কামালের রান্নাঘর ভাঙচুর করে তার জায়গার উপর ভাই খোরশেদ আলম বাড়ির সীমানা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এই ঘটনায় ঘটনায় মোস্তফা কামালের পরিবার লোকজন বাঁধা প্রদান করলে লোকজন দিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী মোস্তফা কামাল জানান, খোরশেদ আলম আমার আপন ছোট ভাই। আমরা দুই ভাই মিলে ৩০৪ নং আশরাফপুর মৌজার ১৫৭ হালে ১৬৪৩ ও ১৬৪৪ দাগের ২৬ শতক জমি ক্রয় করি। বাস্তবে গিয়ে ২৩ শতক জমি বুঝে পাই। ওই ২৩ শতকের মধ্যে সাড়ে ১১ শতক করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বন্টন হয়। পরবর্তীতে আমি আরো ৩ শতক জমি ক্রয় করে কোন মূল্য না নিয়ে আমার ছোট ভাইকে দেড় শতাংশ জমি দখল বুঝিয়ে দেই। আমার ছোট ভাইকে সর্বমোট ১৩ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দিলেও আমার বাড়ির জায়গায় জোরপূর্বক দখল করার জন্য একাধিকবার আমার পরিবার উপর অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর করেন।

গতকাল শনিবার সকালে আমি বাড়িতে না থাকায় আমার পরিবারকে বসত ঘরে অবরুদ্ধ করে একদল সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে আমার বাড়ির জায়গার উপর রান্নাঘর ভাঙচুর করে ছিন্ন-বিছিন্ন করে দেন ছোট ভাই খোরশেদ আলম। পাশাপাশি আমার জায়গার উপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা জন্য পরিকল্পনা শুরু করেন। পরবর্তীতে আমার পরিবার কচুয়া থানার বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেঁ সীমানার নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন।

Model Hospital

তিনি আরো জানান, জায়গায় নিয়ে বারবার দখল করতে আসলে অবশেষে আমি আদালতে আশ্রয় নেই। বর্তমানে আদলতে মামলা চলমান রয়েছে।

বিবাদী খোরশেদ আলম জানান, আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর আমার বড় ভাই মোস্তফা কামাল রান্নাঘর তুলে রেখেছে। রান্নাঘর সরিয়ে আমার জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকবার বলার পরেও তিনি কোন সমাধানে আসেনি। এইজন্য আমি গতকাল শনিবার সকালে মিস্ত্রি দিয়ে রান্নাঘর আমার জায়গা থেকে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গার উপরে রেখে দেই।

এই ভাঙচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগী মোস্তফা কামাল পরিবার পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় এজাহারে দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।