শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাবিকে ‘ফাঁকি’ দিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন দেবর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২, ২:২৭ পিএম
ভাবিকে ‘ফাঁকি’ দিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে জরিমানা গুনলেন দেবর

পাবনার সাঁথিয়ায় আলোচিত দেবর-ভাবির বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দেবর ইব্রাহিম শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) অন্যত্র বিয়ে করতে গেলে ভাবি সেখানে উপস্থিত হয়ে সব ঘটনা খুলে বলেন। এতে পাত্রীপক্ষ বিয়ে তো দেয়ইনি উপরন্তু ইব্রাহিমকে বিয়ে বাড়ির খাবার বাবদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বরযাত্রীদের ফিরতে হয়েছে না খেয়ে।

এ ঘটনায় শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ওই নারীকে তার শাশুড়ি বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে দেবর ইব্রাহিমকে বিয়ের দাবিতে তার ঘরে অনশনে ছিলেন তিনি।

ওই নারীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই গত ১৫ বছর ধরে দেবরের সঙ্গে তার সম্পর্ক চলছে। সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আফড়া হিন্দুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ইব্রাহিম ওই গ্রামের মৃত মোকারম শেখের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৫ জানুয়ারি ইব্রাহিমের পরিবার গোপনে তার বিয়ে ঠিক করে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) ইব্রাহিমের বিয়ের দিন ধার্য হয়। এ খবর পেয়ে বিয়ের দাবিতে ২৬ জানুয়রি থেকে দেবরের ঘরে অনশনে বসেন তার ভাবি। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

Model Hospital

তারপরও ইব্রাহিম কয়েকজন বরযাত্রী নিয়ে গোপনে বিয়ে করতে যান। এরই মধ্যে তার ভাবি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সম্পর্কের কথা সবাইকে নিজ মুখে জানান। পাত্রীপক্ষ ইব্রাহিমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকার করে। তারা তাৎক্ষণিক সালিশি বৈঠকে বসে বিয়ে বাড়িতে সব আয়োজনের খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা ইব্রাহিমের কাছ থেকে আদায় করে। ইব্রাহিমের সঙ্গে যাওয়া বরযাত্রীদেরও না খেয়ে ফিরে আসতে হয়।

অনশনরত নারী জানান, তিনি তিনদিন ধরে দেবরের ঘরে বিয়ের দাবিতে না খেয়ে বসেছিলেন। কিন্তু শনিবার (২৯ জানুয়ারি) তার শাশুড়ি তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

তিনি জানান, এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে বিচার দিয়েছেন। সমাধান না হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তার সঙ্গে যদি ইব্রাহিমের সম্পর্ক না থাকে তাহলে কেন সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে? তিনি নায্যবিচার দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত দেবর ইব্রাহিম বলেন, ভাবির সঙ্গে তার কোনো রকম প্রেমের সম্পর্ক নেই। তার ভাবি এর আগেও তার তিনটি বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। তিনিও এলাকার গণ্যমান্যদের কাছে বিচার চেয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু দায়েন কালু জানান, এ বিষয়ে দু’পক্ষই মৌখিকভাবে বিচার চেয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে তাদের ডেকে খুব শিগগির একটা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম শনিবার রাতে জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছেন। তবে তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’