মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকার মহাসমাবেশে চাঁদপুর থেকে পাঁচ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২১ পিএম
ঢাকার মহাসমাবেশে চাঁদপুর থেকে পাঁচ সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণ

ফিলিস্তিন এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর যে বর্বরোচিত হামলা- নির্যাতন হচ্ছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকায় লাখো মানুষের মহাসমাবেশ হয়েছে শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৫)।

এই সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তিনবার স্থান পরিবর্তন করে সবশেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুমতি দেয়া হয়।

সারাদেশ থেকে লাখো লাখো সুন্নী জনতা এই সমাবেশে অংশ নেন। সুন্নী সুফি ঘরানার সকল পীর মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেন।

চাঁদপুর জেলা থেকে পাঁচ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী ঢাকার মহাসমাবেশে অংশ নেন। লঞ্চে এবং বাসযোগে তারা সমাবেশে যাতায়াত করেন।

Model Hospital

চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে একটা অংশে প্রায় হাজারখানেক নেতা-কর্মী ও মুসল্লিরা শুক্রবার রাতে লঞ্চযোগে ঢাকা যান ৷

কচুয়া, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ থেকে প্রায় ৭০টা বাসের বহর নিয়ে শুক্রবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মতলব উত্তর থেকে আল্লামা শায়খ আশফাক আহমাদ উয়েসী রেফায়ী হুজুরের নেতৃত্বে ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের ব্যানারে রিজার্ভ লঞ্চে সহস্রাধিক সুন্নী মুসলমান নিয়ে ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দেন। এই সমাবেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, যুবসেনাসহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল অঙ্গ সংগঠন এবং তরিকতপন্থী সকল সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, এই মহাসমাবেশ ‘আধিপত্যবিরোধী মুসলিম ঐক্য মঞ্চ’র ব্যানারে হলেও এর আয়োজনে ছিলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং সকল তরিকতপন্থী সংগঠন ও পীর মাশায়েখ।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় সমাবেশমুখী যানবাহনে বাধা, হামলা, স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতার পরও ঢাকা শহরে সুন্নী মুসলমানদের ঢল নামে, রাজধানী নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসালুল্লাহর ধ্বনিতে মুখরিত হয়।

চাঁদপুর জেলার মূল নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন : শায়খ আশফাক আহমাদ উয়েসী রেফায়ী, এএইচএম আহসান উল্লাহ, হুমায়ুন কবির, মাওলানা আলমগীর শাহ, মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী, পীরজাদা মাওলানা খাজা জুবায়ের, মাওলানা খোরশেদ আলম আল-কাদেরী, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন, আক্তার হোসেন, আবদুর রাহীম, বিল্লাল তালুকদার, পীরজাদা বদরুদ্দোজা, খাজা নূরুল আমিন, কামরুল হাসান, মাওলানা আবদুল হান্নান নিজামী, নবাব খান, মুন্নাফ তালুকদার প্রমুখ।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।