রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নথি রক্ষায় গৃদকালিন্দিয়া কলেজের আবেদন ডিসির কাছে

ফরিদগঞ্জে ছুটির দিনে তালা ভেঙে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ৯:১৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে ছুটির দিনে তালা ভেঙে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে সংরক্ষিত প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপুর্ণ নথিপত্র রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন কলেজের নব-গঠিত এডহক কমিটির সভাপতি দ্বারা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

রোববার (১ জুন ২০২৫) তিনি জেলা প্রশাসক এবং ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর অনুরূপ আবেদন করেন।

লিখিত আবেদনে জানা যায়, গত ৩১ মে শনিবার (কলেজের ছুটির দিনে) দুুপুরে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গৌরি রানী সাহা কিছু সংখ্যাক অজ্ঞাত লোকদের সাথে নিয়ে কলেজে এসে অধ্যক্ষ রুমের ও অফিস রুমের তালা ভেঙ্গে ফেলে।

দেলোয়ার হোসেন জানান, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অবৈধভাবে থাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত এডহক কমিটি সভাপতি কর্তৃক অব্যাহতি পাওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গৌরী রানী সাহা কিভাবে কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তা আমার বোধগম্য নয়। আমি ধারনা করছি, তিনি আমাকে ফাঁসাতে বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে এই হীন কাজ করেছেন। তাই আমি বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসক ও ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছি।

Model Hospital

তিনি আরো জানান, কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ কলেজের নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আমাকে জেষ্ঠ্যতম হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগদান করেন। সেই থেকে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দপ্তর বিহীন ভাবেই শিক্ষকদের সহায়তায় গতিশীল রেখে আসছি। কিন্তু সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজেই দীর্ঘদিন থেকে কলেজে অনুপস্থিত থেকে এবং নানাভাবে কলেজের ক্ষতি সাধন করে চলছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারপরও কলেজের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গভর্ণিং বডিন সভাপতির নিদের্শনা মোতাবেক নিয়মিত কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।

কিন্তু কলেজের তালা ভেঙ্গে নথি সরিয়ে ফেললে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।