সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে শহীদ শাহাদাতের স্মৃতিফলক উন্মোচন

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ৫:০৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে শহীদ শাহাদাতের স্মৃতিফলক উন্মোচন
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেনের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানার মোড়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শহীদের এ স্মৃতিচিহ্ন উন্মোচন করা হয়। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা রাজিয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান এবং ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, শহীদ শাহাদাত হোসেনের মা শিরোতাজ বেগম, নানি মমতাজ বেগমসহ মুক্তিকামী জনতা।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউএনও সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমরা আজ শহীদ শাহাদাত হোসেনের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করেছি। শহীদরা জাতির বাতিঘর। তাঁদের আত্মত্যাগে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ শাহাদাত হোসেন সেই আন্দোলনের একজন সাহসী সন্তান। তাঁর এই আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে পারলেই আমাদের এই প্রয়াস সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। শাহাদাতের মা  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন। আমরা আশা করি, আমাদের ছেলের আত্মত্যাগ কেউ ভুলে যাবে না।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ শাহাদাত হোসেনের স্মরণে আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য: ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানার ফটকে শাহাদাত হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।