সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ পতনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশে

আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, করবো : লায়ন হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪৩ পিএম
আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, করবো : লায়ন হারুনুর রশিদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি এবং ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের’ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিজয় র‍্যালি করেছে বিএনপির একাংশ।
সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে এ র‍্যালি বের হয়।
ফরিদগঞ্জ টিএন্ডটি মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বলেন, “আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম আর ছাত্র জনতার ২০২৪ সালের গণজাগরণের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি।
কিন্তু এই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করেছে, ফ্যাসিস্টরা সকলের ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিএনপি সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি, করবো।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, জেলা ও উপজেলা যুবদল নেতা ফজলুর রহমান ফজলুল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা শাহবুদ্দিন বাবুল, বিল্লাল হোসেন কোম্পানী, সেলিম মাহমুদ রাড়ি, সোহেল খান, মোহাম্মদ আলী মৃধা, এ এম টুটুল পাটওয়ারী, আব্দুল কাইয়ুম, পেয়ার আহমেদ, ওসমান পাটওয়ারী, শাওন পাঠান, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী, হোসেন পাটওয়ারী, ইলিয়াস গাজী, মশিউর রহমান টিপু আবু জাফর।
ফরিদগঞ্জ পৌর বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসেন, ওসমান পাটওয়ারী, ইকবাল পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাশেদ আলম, মহিন ভূঁইয়া, ইয়াছিন আখন সুজন, সোহেল ভূঁইয়া, বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাজির পাটওয়ারী, সাগর মেম্বার, বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন, সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সিরাজ মাষ্টার, আশ্রাফ খান আশু, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, মিঠু পাটওয়ারী, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান খান কালু, শাহ আলম পাটওয়ারী, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ভিপি আব্দুল খায়ের রুবেল, নান্নু দেওয়ান, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজী, সৌহরাভ হোসেন, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ মমিন খান, সৈয়দ রাড়ি, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নেছার আহমেদ ভূঁইয়া, বিল্লাল মেম্বার, মাহবুবুর রহমান রুবেল, চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান, সুজন মৃধা, সুমন হাওলাদার, চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রুহুল আমিন দেওয়ান, সেলিম গাজী, সফিকুর রহমান মেম্বার, ফজলুর রহমান মেম্বার, মোঃ মমিন হোসেন, ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা দিদারুল আলম ভূঁইয়া, আলমগীর দেওয়ান, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ রবিউল আলম বাবু, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল জলিল, ছোট ফারুক, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন খান, ইকবাল পাটোয়ারী, মশিউর রহমান রিপন, সেলিম পাটওয়ারী, আবুল খায়ের মেম্বার, আব্দুল কাদিরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মীরা।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।