সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম
সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা
গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে সারা দেশে। এরই অংশ হিসেবে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন, নুরুন্নবী নোমান, প্রবীর চক্রবর্তী, এস. এম. মিজানুর রহমান, আবদুস সোবহান লিটন, নারায়ণ রবি দাস ও মো. শিমুল হাছান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদ আহমেদ মুন্না, এস. এম. ইকবাল, মো. গাজী মমিন, জসিম উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, ফাহাদ খান, মামুন হোসাইন, মেহেদী হাসান, শামিম হাসান, ফখরুল পাঠান, এফ. এ. মানিক, মো. সাখাওয়াত হোসেন মিন্টুসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
বক্তারা তুহিন হত্যাকাণ্ডকে দেশের সাংবাদিকতার জন্য এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন “দিনেদুপুরে জনবহুল এলাকায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা প্রমাণ করে, দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। সাংবাদিকরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। তুহিন হত্যার বিচার বিলম্বিত হলে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যক্রম না করা হলে সারাদেশের ন্যায় ফরিদগঞ্জের সকল সাংবাদিক একত্রিত হয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবে।
সভায় উপস্থিত বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড রোধে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।