সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের হাসান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের হাসান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

ফরিদগঞ্জের হাসান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার নোয়াগাঁও গ্রামের রন মিজি বাড়ির যুবক হাসানুর রহমান হাসানের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে নোয়াগাঁও ও মিরপুর গ্রাম থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন নিহত হাসানের ভাই শরীফ হোসেন, বোন কুলছুমা বেগম ও মা পেয়ারা বেগম।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও হাসানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বরং তারা প্রকাশ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। এতে যে কোনো সময় হাসানের পরিবারের অন্য সদস্যরাও খুন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বক্তারা আরও জানান, পুলিশ এ ঘটনায় মাত্র একজনকে আটক করেছে, কিন্তু আমাদের ধারণা মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো মুক্ত। তাই অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানাই।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই ২০২৫ বিকেলে পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও গ্রামের তপদার বাড়ির শাহ আলমের পোল্ট্রি খামারের পাশে সাত্তার মিয়ার মালিকানাধীন সুপারি বাগান থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসানুর রহমান হাসান রন মিজি বাড়ির খোকন মিজির ছেলে এবং ১ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক ছিলেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।