সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

অনৈতিক সম্পর্কের সময় পুত্রবধূকে হাতেনাতে ধরলো শ্বশুর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৪ পিএম
অনৈতিক সম্পর্কের সময় পুত্রবধূকে হাতেনাতে ধরলো শ্বশুর

মধ্যরাতে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে নিজ গৃহবধূকে হাতেনাতে আটক করেছেন তার শ্বশুর। আটককৃত ওই নারী মোছা. শিফা খাতুন (২৩) সিরাজগঞ্জ জেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের আড়িয়ামোহন পশ্চিমপাড়া গ্রামের। তিনি সৈনিক নাজমুল হাসানের স্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে আটকের এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, শিফা খাতুনের স্বামী সৈনিক নাজমুল হাসান বর্তমানে কুয়েত মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এ সুযোগে স্ত্রী শিফা খাতুন তার বাবার বাড়ির এলাকার সলঙ্গা থানার বড় গজা গ্রামের প্রতিবেশী যুবক নাবিলের (২৪) সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে শিফা ও নাবিলের মধ্যে সম্প্রতি যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সোমবার গভীর রাতে আড়িয়ামোহন পশ্চিমপাড়া গ্রামে নাজমুল হাসানের বাড়িতে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকালে শ্বশুর জহুরুল ইসলাম হাতেনাতে তাদের আটক করেন।

Model Hospital

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যও সেখানে উপস্থিত হন।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করি। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সৈনিক নাজমুল বিদেশে দেশের জন্য কাজ করছেন, আর এদিকে তার পরিবারের এমন ঘটনা আমাদের সবাইকে বিব্রত করেছে।

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা আসমা খাতুন বলেন, শ্বশুর নিজে হাতেনাতে ধরে ফেলায় ঘটনা নিয়ে আর গোপন রাখার সুযোগ নেই। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে ন্যায়বিচার করুক।

এ দিকে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।