সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীর ওপর হামলা, ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীর ওপর হামলা, ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

হামলার শিকার আশরাফ উদ্দিন।

ফরিদগঞ্জে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় আশরাফ উদ্দিন (২৫) নামে যুবক শিকার হয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী খোরশেদ আলম কুট্টি (৪২) একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।
হামলার শিকার আশরাফ উদ্দিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির সদস্য ছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, হামলার শিকার আশরাফ এবং খোরশেদের মাঝে সাত হাজার টাকার একটি লেনদেন রয়েছে। প্রায় ছয় মাস ধরে পাওনা পরিশোধে তালবাহানা করে আসছেন খোরশেদ। সম্প্রতি টাকা আদায়ে খোরশেদের উপর চাপ সৃষ্টি করে আশরাফ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সামনে রাস্তায় একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় খোরশেদ।
ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে আশরাফের অন্ডকোষ চেপে ধরে হত্যা চেষ্টা চালায় সে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আশরাফকে উদ্ধার করে এবং খোরশেদকে আটকে রাখে।
এ সময় হঠাৎ করে খোরশেদের ভাই সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন এসে হাতে থাকা টর্চ এবং লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে বেশ কয়েকজনকে আহত করে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সেখান থেকে একটি দা জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় আহত আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে ৬ জনকে বিবাদী করে বৃহস্পতিবার রাতেই ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
বিবাদী হলেন খোরশেদ আলম কুট্টি(৪২), তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম(৩৭), ছেলে পারভেজ হোসেন(১৮), ভাই মোঃ সিরাজ(৪৫), ভাতিজা মোঃ মারুফ হোসেন(১৮), পিতা আব্দুস সাত্তার(৬৫)।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদের স্ত্রী হোসনে আরা লেনদেনের সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সময় খোরশেদসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন।
এদিকে আশরাফের উপর হামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।