রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ার কুয়েত প্রবাসীকে বিয়ে করে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে পথে বসালেন স্ত্রী!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৫ পিএম
কচুয়ার কুয়েত প্রবাসীকে বিয়ে করে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে পথে বসালেন স্ত্রী!

কচুয়ায় কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা আখিঁ।

কুয়েত প্রবাসীকে বিয়ে করে নগদ টাকা ও সম্পত্তি মিলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাত করে স্বামীকে পথে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা সাভারের ব্যাংক টাউন ৯নং ওয়ার্ডের বটতলার প্রবাসী রহিমা বেগমের মেয়ে রাবেয়া সুলতানা আঁখি (৩৭)। ভুক্তভোগী চাঁদপুর কচুয়া উপজেলার উজানী গ্রামের মৃত ইসহাক মোল্লার ছেলে হেলাল উদ্দিন (৫০)। ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার করেন।

অভিযোগ সূত্রে ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াতে প্রবাসে একটি মাদ্রাসায় চাকরি করি। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা আঁখি ও শাশুড়ি রহিমা বেগম কুয়াতে থাকেন। আমার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ক্রমে ২০১৮ সালের ২৩শে ডিসেম্বরে ইসলামি শরিয়াহ আইন মোতাবেক রাবেয়া সুলতানা আখির সাথে তার নিজ এলাকায় সাভার ব্যাংক টাউন দ্বিতীয় বিবাহ সম্পূর্ণ করি। বিবাহের পর আমি জানতে পারি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা আঁখি পূর্বেও ২টি বিবাহ করেছে এবং তার প্রথম স্বামীর একটি সন্তান রয়েছে। দুইটি বিবাহ গোপন করে নিজেকে কুমারী দাবি করে আমার সাথে বিবাহ বসেন ।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখির সাথে কুয়াতে বসবাস শুরু করি। ২০২১ সালে ১৮ নভেম্বর থেকে তিন দফায় স্ত্রী আঁখি, শাশুড়ি রহিমা বেগম ও তার বড় বোন রুনা আক্তার মিলে শাশুড়ি রহিমা বেগমের ৪ শতাংশ জমি আমার কাছে বিক্রি করবে বলে ১৪ লক্ষ টাকা, রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ এক লক্ষ টাকা, মোট ১৫ লক্ষ টাকা আমার কাছ থেকে নিয়ে যায়। ২০২২ সালে মে মাসের ১৫ তারিখে আমার ক্রয়কৃত জমি আমার নিজ নামে রেজেস্ট্রি করিয়া দিবে বলে স্ট্যাম্পে লিখিত দেয়। আমার স্ত্রী, শাশুড়ি, মামাশ্বশুর, আমাকে ঢাকায় ফ্ল্যাট নিয়ে দিবে বলে কয়েক ধাপে আমার কাছ থেকে ৩৮ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় । পরবর্তীতে ক্রয়কৃত জমি ও ফ্ল্যাট কোনটাই রেজিস্ট্রি করে দেয়নি ।

আমার ক্রয়কৃত জমি ও ফ্ল্যাটের কথা বললে বিবাদীদের আত্মীয়-স্বজন তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছবি পাঠিয়ে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমার ভয়ভীতি হুমকি ধমকি প্রদান করেন । জমি ও ফ্ল্যাট উদ্ধার করার জন্য ২০২২ সালে ১৩ নভেম্বর কুয়েত আদালতে আমি একটি মামলা দায়ের করি। মামলাটি ২০২৩ সালে ৭ মার্চ আমার পক্ষে রায় আসে । বিবাদী আঁখির বিরুদ্ধে কুয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত।

Model Hospital

কুয়েত দূতাবাসে আমার স্ত্রী আমার থেকে নেওয়া যাবতীয় টাকা ও আমার দেওয়া ৬ শতাংশ জমি আমাকে ফিরিয়ে দিবে বলে একটি আম-মোক্তার দলিল দেন। পরে আমার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আঁখির সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। কুয়েতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী চলিত বছরের মে মাসের ২৩ তারিখে আমার প্রথম স্ত্রীর ছেলের হবুবউ এর জন্য নগদ ২ লক্ষ টাকা,৮ ভরি স্বর্ণ ও একটি আইফোন মোবাইল সেট নিয়ে আসে। যাহা আমার প্রথম স্ত্রীর কাছে এখনো পৌছায়নি। আমি বাংলাদেশে এসে জানতে পারি চলতি বছরে জুলাই মাসের ১ তারিখে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা আঁখি আমাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে যাহা এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি এবং উক্ত বিষয়ে আমি বিবাদীগণদের সাথে কথা বলতে গেলে তাঁরা আমাকে প্রাণ নাশ এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিবে মর্মে হুমকি ধমকি প্রদান করে।

হেলাল উদ্দিন আরো জানান, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা আঁখি দেশে এসে উল্লেখিত বিবাদী ঢাকা সাভার থানার হিজলা গ্রামের মধ্যপাড়া বাতেন কম্পানির বাড়ির মৃত উজির আহমেদের মেয়ে মোসা: রুনা (আহন) কে কুরআনে হাত রেখে সমকামিতা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমার কাছে একাধিক অডিও ও ভিডিও রেকর্ডসহ সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে জীবনের কষ্টার্জিত সবকিছু হারিয়ে হেলাল উদ্দিন অবশেষে পথে বসেছেন। ন্যায় বিচার পেতে তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীদের কাছে জোর দাবি জানান।

অভিযুক্ত বিবাদী রাবেয়া সুলতানা আঁখি ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বার ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদরের ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির হোসেন চোকদার দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন বংশের মুরব্বিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়ালনগর পাটোয়ারী বাজার মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজরাজেশ্বর প্রধানীয়া বংশীয় মুরব্বি হাজী কাদির প্রধানীয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চোকদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী দেওয়ান, এলাকার মুরব্বি কাদির প্রধানীয়া, মোহাম্মদ মিজি, সাইদ দেওয়ান, আব্দুল বেপারী, আমু ঢালী, আলমগীর মাল, শফিকুল কুড়ালী, জাহাঙ্গীর সরকার, আবু বকর পাটোয়ারী, আবুল বকাউল, রহমান প্রধানিয়া, নাসির রাঢ়ি, নবীর দেওয়ান, সেকুল দেওয়ান, এবাদুল্লাহ দেওয়ান, হুমায়ুন বেপারী, ফজল সরকার, মুকবুল আসামি, মানিক ভুঁইয়া, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মিজি, ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবুল প্রধানীয়া, ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ ঢালী, ৪নং ওয়ার্ডে সভাপতি সেকুল বেপারী, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মাল, ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরকার, ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাফেজ দেওয়ানা, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাচ্চু বেপারী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে আমরা একজন সৎ, আদর্শবান এবং দক্ষ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চাই। যিনি এই ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। সেই নেতৃত্বের সকল গুণাবলী আমরা ওই এলাকার কৃতি সন্তান কবির হোসেন চৌকদারের ভেতরে দেখছি। আমরা বিশ্বাস করি তিনি বাবা মায়ের মতোই একজন জনবান্ধব এবং যোগ্য জনপ্রতিনিধি হবেন। তাই দলের প্রতি অনুরোধ করবো আগামী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে যেন দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কবির হোসেন চোকদার তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আজ পর্যন্ত তারা কেউ এলাকা ছেড়ে যাননি। আমিও আমার বাবা-মায়ের আদর্শকে ধারণ করে এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের দীর্ঘ সময় পাশে ছিলাম। জনপ্রতিনিধি হই বা না হই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এলাকায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাব।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে স্বক্রিয় ছিলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমার দল আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে। এরপরে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আমি সামাজিক কাজ করে যাব। আমাদের অভিভাবক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গডে তোলার এই অগ্রযাত্রায় আমিও একজন সারথী হতে চাই। এজন্য আমি আপনাদের দোয়া, সমর্থন এবং ভালোবাসা কামনা করছি।

সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার মুরুব্বীরা উপস্থিত ছিলেন।