রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে যুবদলের তিন শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে

বিএনপি সরকার গঠন করলে যুবদল নেতাদের হত্যার বিচার হবে : মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২৯ পিএম
বিএনপি সরকার গঠন করলে যুবদল নেতাদের হত্যার বিচার হবে : মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে যুবদল নেতা আরিফ, বাবুল ও জাহাঙ্গীরের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ আম্বিয়া ইউনুছ ফাউন্ডেশনের তৃতীয় তলায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন যুবদলের এই তিন নেতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী। সভার সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশিদ মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান ফরহাদ, শহীদ আরিফের ভাই ও রূপসা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শহীদ জাহাঙ্গীরের ভাই হুমায়ুন কবির আহমেদ এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর পুলিশ ও ফ্যাসিবাদী সরকারের সন্ত্রাসীদের হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন আরিফ, বাবুল ও জাহাঙ্গীর। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের প্রভাবে নিহতদের পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মামলা করা হলেও উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে তা মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে আদালতের মাধ্যমে এই হত্যার বিচার হবে। তবেই তাদের আত্মার শান্তি মিলবে।
মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমি আমার প্রয়াত বড় ভাই নুরুল ইসলাম কোম্পানির মতোই বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো। আশা করি, আমাদের পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আমাকে মূল্যায়ন করবেন এবং ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে আপনাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মিলন গাজী, শাহজাহান গাজী, মোহাম্মদ বাচ্চু, যুবদল নেতা আমির হোসেন, জহিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ নকিব, মাহফুজ, এমরান হোসেন মাসুদ, সবুজ, শরীফ হোসেন, মো. হেলাল, মো. রোকন, মো. রাসেল, মো. সুমন, মো. সাদ্দাম, মো. সাইফুল, মো. মামুন, মো. মাহবুব, নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইমরান হোসেন স্বপন, হিজির আহমেদ, ছাত্রনেতা আব্দুল কাইয়ুম সুমন, মো. পারভেজ, মো. মাসুম, মো. শরীফ ও তানজিল হোসেন।
শেষে শহীদ আরিফ, বাবুল, জাহাঙ্গীর, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন তুলাতলি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন আমিনী।
উল্লেখ্য: আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের পূর্বে দলিয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ তিন যুবদল নেতার কবর জিয়ারত করেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।