রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জিলানী চিশতী কলেজের জিপিএ-৫প্রাপ্ত বাবাহীন সংগ্রামী শিক্ষার্থী শাম্মীকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৯ পিএম
জিলানী চিশতী কলেজের জিপিএ-৫প্রাপ্ত বাবাহীন সংগ্রামী শিক্ষার্থী শাম্মীকে সংবর্ধনা

শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শাম্মীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি কলেজের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদীসহ শিক্ষকবৃন্দ।

বাবাহীন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি সুমাইয়া আক্তার টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ সামলান। দারিদ্র্য, একাকিত্ব, সংসারের দায়িত্ব, সবকিছুর মধ্যেও থেমে থাকেনি তাঁর স্বপ্নপূরণের যাত্রা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে কুমিল্লা বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সুমাইয়া আক্তার শাম্মী।

২০২০ সালে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া সুমাইয়া তার বাবাকে হারিয়ে সংসারের সকল দায়িত্ব পড়ে তার উপর। টিউশনি করে সব খরচ সামলিয়ে চালিয়ে নিয়েছেন তার পড়াশোনা। করেছেন ভালো ফলাফলও। কলেজের একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়ে কুড়িয়েছেন সম্মান।

তাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে সংবর্ধনা দিল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Model Hospital

গতকাল রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আজকের অনুষ্ঠান থেকে প্রথমে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শাস্মী ও তার মাতাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ১৯৭০ সালে আমার দাদা শিক্ষাবিদ মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ নারী শিক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাচ্ছে। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাবা ছাড়া সংসারে টিউশনি করে এ পর্যায় এসেছে। এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়, এ+ কমেছে। প্রশাসনের দৃষ্টিতে এসেছে শাম্মীর সংগ্রামের গল্প। আমরা শাম্মীর পাশে আছি। মেধাবী শিক্ষার্থী শাম্মীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। শিক্ষাক্ষেত্রে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই তাকে। চাঁদপুরের মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয় ও চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় জিপিত্র-৫ প্রাপ্ত মেধাবী সংগ্রামী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শাম্মীর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতায় পাশে থাকার কথা বলেছে। এ জন্য কলেজের পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই চাঁদপুর জেলা প্রশাসনকে।

তিনি বলেন, আমরা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন ৷ এ প্রতিষ্ঠান এলাকাবাসীর জন্য গর্ব। হামানকর্দ্দী পল্লীমঙ্গল স্কুল ও জিলানী চিশতী কলেজের জন্য গর্ব। এ প্রোগ্রাম থেকে তোমরা অনুপ্রেরণা নিবে। তোমাদের প্রত্যেককে শাম্মীর মত হতে হবে। আমরা শাম্মীর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হলে পড়াশুনার বিষয়ে খোঁজখবর নিবো। তোমরা যারা অধ্যয়নরত আছো, নিয়মিত পড়ালেখা করবে। শিক্ষকদের দিক-নির্দেশনা মেনে চলবে। মোবাইল আসক্ত থেকে দূরে থাকবে। এখানে শাম্মীর মাকেও কৃতিত্ব দিচ্ছি। সবচেয়ে বেশী অনুপ্রেরনা ছিলো তার মার। সে নিজে টিউশনি করে পড়াশুনা করছে, কারো কাছে হাত পাতে না। সকল শিক্ষক টিম ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবেন।

২৯নং উত্তর শাহতলী উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের বিদায়ী সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (অব:) মো: গোলাম সারওয়ার কচি, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসীন উদ্দিন, হামানকর্দ্দী পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন,

উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, চাঁদপুর জেলা সমবায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুসাদ্দেক আল আকিব, কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ফারজানা আক্তার, মো: জিয়াউর রহমান, মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শাম্মী, দ্বাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থী রুপা রানী দাস।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মাওলানা ছোহাইল আহমাদ চিশতী, মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, মো: হানিফ মিয়া, মো: হাবিবুর রহমান, সিনিয়র প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, মো: শাহাদাৎ হোসেন, ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান খান মুকুল, কলেজের প্রভাষক মোসা: মনোয়ারা খাতুন, ফরিদা ইয়াসমিন, সুমা রানী, হাবিবা আক্তার রানী, মনোয়ারা আক্তার, শরীরচর্চা শিক্ষক হালিমা আক্তার, লাইবৈরী শিক্ষক নাছরীন আক্তার, জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মা মিসেস রিক্তা বেগম, কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, অফিস সহকারি মো: মেহেদী হাসান, দৈনিক চাঁদপুর খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মহসিন হোসাইনসহ অন্যান্যরা।

শুরুতেই জিপিত্র-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার শাম্মীকে জিলানী চিশতী কলেজের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সংবর্ধনা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করেন প্রধান অতিথি কলেজের আজীবন দাতা সদস্য সাংবাদিক সোহেল রুশদীসহ শিক্ষকবৃন্দ

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন৷
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অত্র কলেজটিতে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ জন জিপিত্র-৫সহ ৫১.৮৫% শিক্ষার্থী পাশ করেছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।