রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মনোনয়ন বঞ্চিত এমএ হান্নানের সমর্থকদের সড়ক অবরোধ

লায়ন হারুনের নাম প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ফরিদগঞ্জে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১৯ এম
লায়ন হারুনের নাম প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ফরিদগঞ্জে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

চাঁদপুর–৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত লায়ন মো. হারুনুর রশিদের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা আলহাজ্ব এম.এ. হান্নানের সমর্থকরা ফরিদগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গতকাল (৩ নভেম্বর ২০২৫) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে দলীয় মনোনয়ন পান সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। ঘোষণাটি মুহূর্তের মধ্যেই ফরিদগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে হান্নান সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
রাতেই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরদিন (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সহস্রাধিক নেতাকর্মী ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা রাস্তায় শুয়ে পড়ে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও ককটেল ফাটিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় ফরিদগঞ্জ টিএন্ডটি মোড় থেকে কালিরবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত একাধিক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে স্লোগান ওঠে’ “অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানব না”,
“হান্নান ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “দুর্দিনের হান্নান ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই।”
খণ্ড খণ্ড সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেন ও ডা. আবুল কালাম আজাদ।
বক্তারা বলেন, “তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান বলেছেন, যারা দুর্দিনে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা কথার বরখেলাপ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাথমিক মনোনয়ন প্রত্যাহার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খসরু মোল্লা, ফারুক আহম্মেদ খান, নজরুল ইসলাম (নজু) পাটওয়ারী, পৌর বিএনপির সভাপতি আমানত গাজী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফারুক খান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি মো. ইমাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিন মিজি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান মঞ্জুর, সদস্য সচিব আবু ইউসুফ চৌধুরী শাওন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন শিবলু, উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রেবেকা সুলতানাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী প্রমূখ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।