রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৪১ পিএম
ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে

ফরিদগঞ্জে অভিযুক্ত সম্প্রতি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্তোষপুর এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ সন্তোষপুর হায়দার আলী বেপারী বাড়ির অভিমুখে গাছ কেটে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে।
অভিযোগকারী আলাউদ্দিন বেপারী বলেন, “আমার ভাই গিয়াস উদ্দিনের ছেলে বিপ্লব হোসেন রাশেদ, রাসেল হোসেন, টুটুল হোসেন ও মাসুদ হোসেন আমার সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করছে। তারা বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে হুমকি-ধামকি দেয়। বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের সম্পত্তি নিয়ে আজ সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাকে না ডেকেই তারা সালিশি শেষ করেছে। আমি এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানি না।”
অন্যদিকে, সোহরাব বেপারী বলেন, “কয়েক মাস আগে আমি আমার ভাতিজাদের কাছে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করি। তারা বলে আমি রাস্তার পাশের জমি বিক্রি করেছি, কিন্তু আসলে বিক্রি করেছি পেছনের দিকের জমি। এখন তারা আমার ভাইয়ের সম্পত্তি দখল করে রাস্তা প্রসারিত করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হায়দার আলী বেপারী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে প্রায় ২০–২৫ বছর ধরে বিরোধ ও মামলা চলমান। সম্প্রতি স্থানীয় আলম হোসেন বেপারীর আহ্বানে গত দুই মাসে ছয় দফা সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সর্বশেষ বৈঠকে স্থানীয় আমিন দিয়ে মাপজরিপ শেষে বিরোধপূর্ণ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই আলাউদ্দিন বেপারীর ভাতিজারা গাছ কেটে রাস্তা প্রশস্তের কাজ শুরু করে।
অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন বেপারীর ছেলে রাসেল হোসেন বলেন, “এই জায়গা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। চাচা সোহরাব ও চাচির কাছ থেকে আমরা ১৫ শতাংশ জমি কিনেছি। সেই জমির রাস্তা প্রশস্ত করতে গেলে চাচা আলাউদ্দিন বেপারী বাধা দেন। এরপর একাধিক সালিশি বৈঠক হয়। আজ স্থানীয় সালিশরা আমিন এনে মাপজরিপ করে আমাদের জমি বুঝিয়ে দেন।”
তাকে প্রশ্ন করা হয়, অভিযোগকারী চাচাকে বাদ দিয়ে সালিশ সম্পন্ন করা কতটা যৌক্তিক? জবাবে রাসেল হোসেন বলেন, “চাচাকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। আমাদের জমি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে দোষের কিছু দেখি না।”
এদিকে জানা যায়, সোহরাব বেপারী দীর্ঘদিন আদালতে মামলা পরিচালনার পর ২০২৪ সালে একতরফা রায় পান এবং নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত করে স্ত্রীকে হেবা দলিল দেন। পরে ২০২৫ সালে তারা ওই সম্পত্তির ১৫ শতাংশ অংশ ভাতিজাদের কাছে বিক্রি করেন।
স্থানীয়রা বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই বর্তমানে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।