সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

৭ই নভেম্বর উপলক্ষে কল‍্যাণপুরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আলোচনা সভা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সৃষ্টি হয়েছে : মোস্তফা খান সফরী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৩২ পিএম
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সৃষ্টি হয়েছে : মোস্তফা খান সফরী

চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং চাঁদপুর -৩ আসেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তফা খান সফরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিক, যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক তাদেরকে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ইতিহাস জানতে হবে। কারণ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই ৭ই নভেম্বরের সৃষ্টি হয়েছে।

৮ নভেম্বর শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল‍্যাণপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরী বলেন, বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন মানচিত্র এবং পতাকা পেয়েছি। কিন্তু ৭৫ সালের পর দেশের মানুষ উপলব্ধি করতে পারল, আমরা কাগজে-কলমে স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারিনি। কারণ স্বাধীনতার পরে যে রাজনৈতিক দলটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ছিল তারা ভারতের মতো আরেকটি আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করেছে। স্বাধীনতার পর যে দলটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাবী করেছে তারা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। সেই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উপলব্ধি আসলো আরেক রাজনৈতিক দল এবং একজন নেতা আমাদের প্রয়োজন। যিনি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে ধারণ এবং লালন করবে। যার ভিতরে শতভাগ দেশ প্রেম রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সফল সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মোস্তফা খান সফরী আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালবসা এবং দাবির প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নামক নতুন রাজনৈতিক দল। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি এদেশের বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুকে উপেক্ষা করে সারাটি জীবন দেশের মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সংগ্রাম করে আসছেন। কাজেই আমরা বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে বিএনপিকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম সমাজ পরিবর্তনে কাজ করার জন্য, নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য নয়। ইনশাআল্লাহ যদি কখনো সেই সুযোগ পাই তাহলে আপনাদের সাথে নিয়ে সুন্দর একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করব। ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আমি রাজপথে ছিলাম। চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে বিএনপির থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। তবে দল থেকে চূড়ান্তভাবে যাকেই মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষে কাজ করব। কারণ আমি বেগম খালেদা জিয়া এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যশীল। বিএনপি এবং ধানের শীষের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাফিউল সাহাদাত ওয়াসীম পাটোয়ারী। কল্যাণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক মিজির সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবদলের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আবু আহমেদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্রনেতা ও ঢাকা বারের আইনজীবী এ.এইচ. এম আশ্রাফুল ইসলাম আশু, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল পাটোয়ারী, সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ বশির পারভেজ।

এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানিস্থলে সমবেত হন। এ সময় তারা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানের শ্লোগানে অনুষ্ঠান স্থল মুখরিত করে রাখেন। অনেকের হাতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ধানের শীষের বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন শোভা পায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন বাট, বিএনপি নেতা জাকির খান, হুমায়ূন প্রধানীয়া, সোহেল বকাউল, ফরিদ মিজি, মোজাম্মেল মিজি, সোহেল কাজী, ইব্রাহিম প্রধানীয়া, মোঃ শুক্কুর গাজী, যুবদল নেতা শামীম মজুমদার, শরীফ গাজী, মনির খান, মনির তালুকদার, আজিজ খান, জহির তপাদার, মোক্তার গাজী, সোহাগ বকাউল, মোঃ পিন্টু খান, সুমন মোল্লা, হারেস গাজী, সাইফুল ইসলাম বাবু, মানিক গাজী, শাহাদাত শেখ, সাবেক ছাত্রনেতা সুকুমার রায়, রাসেল আহমেদ জনি, শরিফ গাজী, মেহেদী হাসানসহ বিএনপি যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদল এবং মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।