রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ, সংঘর্ষের আশঙ্কা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:২৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ, সংঘর্ষের আশঙ্কা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও থানায় দেওয়া মুচলেকা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরদুঃখীয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইর চর এলাকায়। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লড়াইর চর মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০২৩ সালে সাবেক ইউপি সদস্য ও বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ‘লেদু মিয়া’র কাছ থেকে ৫৯৭ নং খতিয়ানের ৪টি দাগে ১৩.৫০ শতক, ৭২৮ নং খতিয়ানের ৭ শতক এবং ৫৯৩ নং খতিয়ানের ৯.৫০ শতক মোট ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে একই এলাকার শাহাবুদ্দিন ওরফে সফি উল্লাহর কাছ থেকে মোঃ সাইফুল ইসলাম তালুকদার ৬৯৮–৬৯৯ নং খতিয়ানে ১০ শতক জমি ক্রয় করলে উভয়ের মধ্যে জমির সাইট ও সীমানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি করেন এবং বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি গত ৫ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ থানার এসআই হেলাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ একটি সালিশনামায় স্বাক্ষর করে। সেই সালিশনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না।
কিন্তু মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জমিতেই কাজ করছি।” তবে মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এ সময় তার লোকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মিজানুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম খলিলকে গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ।
অপরদিকে মিজানুর রহমান বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি কিনেছি। তারপর থেকেই সাইফুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন গং বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করে আসছে। বিষয়টি আদালত ও থানায় বিচারাধীন থাকার পরও তারা প্রতারণামূলকভাবে লিখিত অঙ্গীকার ভেঙে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আফলাতুন কায়সার বলেন,“দু’পক্ষই জমি কিনেছে, এতে সন্দেহ নেই। তবে জমির সাইট নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসা।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই হেলাল উদ্দিন বলেন, “উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি লিখিত সালিশনামা করা হয়েছে। সেখানে তারা সাত দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করে। তবে নির্মাণ কাজ শুরু করার বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদরের ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির হোসেন চোকদার দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন বংশের মুরব্বিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়ালনগর পাটোয়ারী বাজার মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজরাজেশ্বর প্রধানীয়া বংশীয় মুরব্বি হাজী কাদির প্রধানীয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চোকদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী দেওয়ান, এলাকার মুরব্বি কাদির প্রধানীয়া, মোহাম্মদ মিজি, সাইদ দেওয়ান, আব্দুল বেপারী, আমু ঢালী, আলমগীর মাল, শফিকুল কুড়ালী, জাহাঙ্গীর সরকার, আবু বকর পাটোয়ারী, আবুল বকাউল, রহমান প্রধানিয়া, নাসির রাঢ়ি, নবীর দেওয়ান, সেকুল দেওয়ান, এবাদুল্লাহ দেওয়ান, হুমায়ুন বেপারী, ফজল সরকার, মুকবুল আসামি, মানিক ভুঁইয়া, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মিজি, ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবুল প্রধানীয়া, ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ ঢালী, ৪নং ওয়ার্ডে সভাপতি সেকুল বেপারী, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মাল, ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরকার, ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাফেজ দেওয়ানা, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাচ্চু বেপারী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে আমরা একজন সৎ, আদর্শবান এবং দক্ষ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চাই। যিনি এই ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। সেই নেতৃত্বের সকল গুণাবলী আমরা ওই এলাকার কৃতি সন্তান কবির হোসেন চৌকদারের ভেতরে দেখছি। আমরা বিশ্বাস করি তিনি বাবা মায়ের মতোই একজন জনবান্ধব এবং যোগ্য জনপ্রতিনিধি হবেন। তাই দলের প্রতি অনুরোধ করবো আগামী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে যেন দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কবির হোসেন চোকদার তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আজ পর্যন্ত তারা কেউ এলাকা ছেড়ে যাননি। আমিও আমার বাবা-মায়ের আদর্শকে ধারণ করে এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের দীর্ঘ সময় পাশে ছিলাম। জনপ্রতিনিধি হই বা না হই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এলাকায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাব।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে স্বক্রিয় ছিলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমার দল আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে। এরপরে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আমি সামাজিক কাজ করে যাব। আমাদের অভিভাবক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গডে তোলার এই অগ্রযাত্রায় আমিও একজন সারথী হতে চাই। এজন্য আমি আপনাদের দোয়া, সমর্থন এবং ভালোবাসা কামনা করছি।

সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার মুরুব্বীরা উপস্থিত ছিলেন।