সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তি সূচীপাড়া দক্ষিণে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা

মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিজয় অপরিহার্য : ইঞ্জি. মমিনুল হক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪৭ পিএম
মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিজয় অপরিহার্য : ইঞ্জি. মমিনুল হক
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) নির্বাচনী  আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ ও পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) ইউপি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।ওই ইউপি বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আঃ রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য।
জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই সত্যকে পুনরুদ্ধার করতেই বিএনপির চলমান আন্দোলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো জুলুম-নির্যাতন, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলা চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনিক অপব্যবহার, অকারণ দরবার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দম্ভের অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক ও জবাব দিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচিত হলে বিনা ওয়ারেন্টে বা বিচারবহির্ভূত পুলিশি হয়রানির অবসান ঘটানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, রেশন কার্ড, কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড ও ‘আদার কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনসেবায় কাঠামোগত সংস্কার আনা হবে।
তরুণ সমাজকে মাদক, পরকীয়া ও পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টিকারী প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা ও আউটসোর্সিং খাতে যোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চলমান সরকারি ভাতা বৃদ্ধি এবং মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের জন্য ন্যায্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে মোবাইল ফোনের অপব্যবহারে সংসার ভাঙন ও শিশু অনাথ হওয়ার যে সামাজিক সংকট তৈরি হচ্ছে, তা রোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠাই আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন—তিনি সুস্থ হয়ে জীবনে শেষবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেবেন।বক্তব্য শেষে আয়োজক ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন—শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজি, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি,বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুদ কবির, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিঃ এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু,শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাসহ ,ইউপি বিএনপির  সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম শেখ, সিনিয়র সহ-সভাপতি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জসিম, ইউপি  যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইমন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান,  ইউপি  ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক ছামির পাটোয়ারী, ইউপি  শ্রমিক দলের সভাপতি জাকির মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সাবেক আহবায়ক সূচিপাড়া দঃ ইউঃ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মোঃ মেহেদী হাসান সুজন,উপজেলা যুবদলের সদস্য মোস্তফা কামাল সোহেল,বিল্লাল হোসেন , আব্দুর রহমান, মহিলা দলের নেত্রী রৌশন আক্তার প্রমুখ।
ওইদিন রাগৈ উত্তর বি. মাঠ, কেশরাংগা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, কৃষ্ণপুর সপ্রাবি মাঠ, নরিংপুর ইউপি উত্তর বি. মাঠ ও লোটরা সপ্রাবি মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।