সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চাঁদপুরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৫ পিএম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে চাঁদপুরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক- বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালানো হয়, যা ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

Model Hospital

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরস্মরণীয়। তাঁদের আদর্শ ও দেশপ্রেম ধারণ করেই একটি সুশিক্ষিত, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অল্প সময় হলেও দেশাত্মবোধক গান, দেশপ্রেমমূলক কবিতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে দেশপ্রেমের চর্চা অব্যাহত রাখা হয়।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফারজানা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার (এসপি) রবিউল হাসান, চাঁদপুর ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাস্টার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের পক্ষ থেকেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।