বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

মহান বিজয় দিবসে চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:০৫ পিএম
মহান বিজয় দিবসে চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

চাঁদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস হলরুমে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন “মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের এই ত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীন দেশের পতাকার নিচে নিরাপদে বসবাস করছি।”
তিনি আরও বলেন “মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি সময়ের ঘটনা নয়, এটি আমাদের চেতনা ও আদর্শ। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধকালীন সময়ে যেমন দেশের জন্য লড়েছেন, তেমনি যুদ্ধোত্তর সময়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে ও হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুর চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবময় অধ্যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানো হচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রেখে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশ সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।
এসময় বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবঃ) শাহ আলম বকাউল, অবসরপ্রাপ্ত বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা এস আই নিরস্ত্র (অবঃ) আমির হোসেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী চাঁদপুর জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপহার সামগ্রী দেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকার জন্য সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্য, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ফোর্সের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) লুৎফুর রহমান, চাঁদপুর পুলিশ হসপিটাল এর ডাক্তার এম আর সায়মন, ডিআইওয়ান মোঃ শোয়েবুর রহমানসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।