রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে গণফোরামের বিজয় দিবসের আলোচনা সভা

মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয় : এড. সেলিম আকবর

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৪ পিএম
মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয় : এড. সেলিম আকবর

চাঁদপুরে গণফোরামের বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা গণফোরামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট সেলিম আকবর।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা গণফোরামের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে চাঁদপুর জেলা গণফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা গণফোরামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট সেলিম আকবর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়; এটি এ দেশের আপামর জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, নির্যাতিত মা-বোনের বেদনা ও মুক্তিকামী মানুষের অদম্য সাহসের মধ্য দিয়েই এই বিজয় অর্জিত হয়েছে।

Model Hospital

তিনি বলেন, বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের দিনের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিজয় দিবস কেবল উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশনা গ্রহণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশের জনগণ অপেক্ষমান। দেশে এখনো নির্বাচনের জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। বিশেষ করে একদিনে গণভোট ও নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন কাজ। গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভোটারদের সচেতন করা হয়নি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতির দিকে যাচ্ছে। কালো টাকা ও অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যায়। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং কোন দলীয় আনুগত্য না দেখায় তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।

শহর গরমের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সুমনের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুল, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মনির চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসুদেব মজুমদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা গণফোরামের সভাপতি মির্জা রুহুল আমিন, মহিলা গণফোরামের সভাপতি এডভোকেট জেসমিন আক্তার, সাধারণ সম্পাদিকা শিল্পী বেগম, জেলা যুব গণফোরামের সভাপতি আলমগীর হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান মিন্টু।

আলোচনা সভায় জেলা গণফোরামের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও বিজয় দিবসের গুরুত্ব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।