কচুয়ার অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই
কচুয়ার দক্ষিন সেঙ্গুয়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই।
চাঁদপুরের কচুয়ায়া অগ্নিকাণ্ডে বাহরাইন এক প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই। এতে প্রবাসজীবনের দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা স্বপ্ন, নিরাপদ আশ্রয় ও সংসারের সব অর্জন এক রাতেই শেষ হয়ে যায়।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় উপজেলার দক্ষিণ সেঙ্গুয়া মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হঠাৎ বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও ততক্ষণে ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই । ঘটনার পর ঘরের সামনে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায় তার বৃদ্ধ মা সালেহা বেগমকে। ছেলের কষ্টের কথা স্মরণ করে বারবার চোখের জল ফেলছেন তিনি।

প্রবাসী ওমর ফারুকের স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ আগুনের তীব্রতা দেখে চিৎকার শুরু করি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। তাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে শক্রাবশত কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকান্ডে প্রায় ২ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার কচুয়া থানায় ভূক্তভোগী ওমর ফারুকের ভাই বোরহান উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতা আনার দাবি জানাচ্ছি।
কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। তবে তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।





