রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ার অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৪ পিএম
কচুয়ার অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

কচুয়ার দক্ষিন সেঙ্গুয়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই।

চাঁদপুরের কচুয়ায়া অগ্নিকাণ্ডে বাহরাইন এক প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই। এতে প্রবাসজীবনের দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা স্বপ্ন, নিরাপদ আশ্রয় ও সংসারের সব অর্জন এক রাতেই শেষ হয়ে যায়।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় উপজেলার দক্ষিণ সেঙ্গুয়া মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হঠাৎ বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও ততক্ষণে ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই । ঘটনার পর ঘরের সামনে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায় তার বৃদ্ধ মা সালেহা বেগমকে। ছেলের কষ্টের কথা স্মরণ করে বারবার চোখের জল ফেলছেন তিনি।

Model Hospital

প্রবাসী ওমর ফারুকের স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ আগুনের তীব্রতা দেখে চিৎকার শুরু করি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। তাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে শক্রাবশত কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকান্ডে প্রায় ২ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার কচুয়া থানায় ভূক্তভোগী ওমর ফারুকের ভাই বোরহান উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতা আনার দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। তবে তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদরের ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির হোসেন চোকদার দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন বংশের মুরব্বিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়ালনগর পাটোয়ারী বাজার মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজরাজেশ্বর প্রধানীয়া বংশীয় মুরব্বি হাজী কাদির প্রধানীয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চোকদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী দেওয়ান, এলাকার মুরব্বি কাদির প্রধানীয়া, মোহাম্মদ মিজি, সাইদ দেওয়ান, আব্দুল বেপারী, আমু ঢালী, আলমগীর মাল, শফিকুল কুড়ালী, জাহাঙ্গীর সরকার, আবু বকর পাটোয়ারী, আবুল বকাউল, রহমান প্রধানিয়া, নাসির রাঢ়ি, নবীর দেওয়ান, সেকুল দেওয়ান, এবাদুল্লাহ দেওয়ান, হুমায়ুন বেপারী, ফজল সরকার, মুকবুল আসামি, মানিক ভুঁইয়া, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মিজি, ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবুল প্রধানীয়া, ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ ঢালী, ৪নং ওয়ার্ডে সভাপতি সেকুল বেপারী, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মাল, ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরকার, ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাফেজ দেওয়ানা, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাচ্চু বেপারী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে আমরা একজন সৎ, আদর্শবান এবং দক্ষ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চাই। যিনি এই ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। সেই নেতৃত্বের সকল গুণাবলী আমরা ওই এলাকার কৃতি সন্তান কবির হোসেন চৌকদারের ভেতরে দেখছি। আমরা বিশ্বাস করি তিনি বাবা মায়ের মতোই একজন জনবান্ধব এবং যোগ্য জনপ্রতিনিধি হবেন। তাই দলের প্রতি অনুরোধ করবো আগামী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে যেন দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কবির হোসেন চোকদার তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আজ পর্যন্ত তারা কেউ এলাকা ছেড়ে যাননি। আমিও আমার বাবা-মায়ের আদর্শকে ধারণ করে এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের দীর্ঘ সময় পাশে ছিলাম। জনপ্রতিনিধি হই বা না হই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এলাকায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাব।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে স্বক্রিয় ছিলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমার দল আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে। এরপরে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আমি সামাজিক কাজ করে যাব। আমাদের অভিভাবক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গডে তোলার এই অগ্রযাত্রায় আমিও একজন সারথী হতে চাই। এজন্য আমি আপনাদের দোয়া, সমর্থন এবং ভালোবাসা কামনা করছি।

সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার মুরুব্বীরা উপস্থিত ছিলেন।