রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বিজয় দিবসে চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর বর্ণাঢ্য র‍্যালী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৪১ পিএম
বিজয় দিবসে চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর বর্ণাঢ্য র‍্যালী

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিজয় র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালবেলা শহরের লেকের পাড় অঙ্গীকার পাদদেশে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাজান মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ দেশের জনগণ আজও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতার নাম ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে গুম, খুন, মামলা ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ দেশমাতৃকার টানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী স্বাধীনতার ইতিহাসকে গোপন রেখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং পরিবারকেন্দ্রিক ইতিহাস তৈরি করেছে। যারা জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতার মানচিত্র অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সূর্যসন্তানদেরও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

অ্যাডভোকেট শাহাজান মিয়া বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের প্রকৃত ইতিহাস এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে। আর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাজান খান। শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ মোঃ বেলায়েত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি মোঃ সবুজ খান, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ মামুন, আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শেষে একটি বিজয় র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে সমাপ্ত হয়।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।