রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বিজয় দিবসে বিএনপির র‌্যালিতে জনতার ঢল, উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ পিএম
বিজয় দিবসে বিএনপির র‌্যালিতে জনতার ঢল, উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
শাহরাস্তিতে শাহরাস্তিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ৫৫তম বিজয় দিবস–২০২৫ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে পৌর শহরের মেহেরকালিবাড়ি মাঠ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়।
র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহরাস্তি গেইট দোয়াভাঙ্গা এলাকার আলামিন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ র‍্যালিতে পায়ে হেঁটে ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
পুরো র‍্যালিজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, স্লোগান ও উদ্দীপনা। নেতাকর্মীরা ধানের শীষ, নেতৃবৃন্দের ছবি ও দলীয় প্রতীকসংবলিত প্লেকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন। ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে বিজয়ের এই দিনে দলীয় প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তাঁরা।
র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা মানে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জের মানুষের উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নিজেকে একজন খাদেম হিসেবে নিবেদন করব। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই সত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, নির্বাচিত হলে জুলুম-নির্যাতন, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ করা হবে।
প্রশাসনিক অপব্যবহার, অকারণ দরবার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দম্ভের অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বিনা ওয়ারেন্টে কিংবা বিচারবহির্ভূত পুলিশি হয়রানি আর চলতে দেওয়া হবে না।উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হবে।
রেশন কার্ড, কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড ও ‘আদার কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জনসেবায় কাঠামোগত সংস্কার আনা হবে। তরুণ সমাজকে মাদক, পরকীয়া ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা ও আউটসোর্সিং খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চলমান সরকারি ভাতা বৃদ্ধি করা হবে এবং মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের জন্য ন্যায্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। মোবাইল ফোনের অপব্যবহারে পরিবার ভাঙন ও সামাজিক সংকট রোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে আমাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আমরা সবাই মিলে জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আত্মার মাগফেরাত কামনা  ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে জীবনের শেষবারের মতো ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি আরও জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ পাটওয়ারী রুপন ও শাহ মোহাম্মদ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন ও আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল কালাম পাটোয়ারী, সাবেক আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আ. মান্নান, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুব চৌধুরী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক আদনান নোমান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন মিয়াজি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন দুলালসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
র‍্যালি শেষে নেতাকর্মীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।