সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

রাঙামাটি জেলা পুলিশের সাইবার সাফল্য: হারানো অর্ধ শতাধিক মোবাইল উদ্ধার

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০২ পিএম
রাঙামাটি জেলা পুলিশের সাইবার সাফল্য: হারানো অর্ধ শতাধিক মোবাইল উদ্ধার

রাঙামাটি জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের নিরলস ও দক্ষ প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া ৫০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মোবাইল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন,
“ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার যেমন অপরাধ বাড়াচ্ছে, তেমনি সঠিক ব্যবহার অপরাধ দমনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। রাঙামাটি জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের হারানো সম্পদ উদ্ধারসহ সাইবার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু—এই আস্থা বাস্তব কাজে প্রমাণ করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “হারানো মোবাইল উদ্ধার শুধু একটি সম্পদ ফেরত দেওয়া নয়, বরং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পুলিশের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, ক্লুলেস মামলা উদ্ঘাটন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে রাঙামাটি জেলা পুলিশ আরও সক্রিয় থাকবে।”

Model Hospital

জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া এসব মোবাইল ফোন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত এই সেল এ পর্যন্ত সাইবার অপরাধ দমন ও ক্লুলেস মামলা উদ্ঘাটনের পাশাপাশি মোট ৫৫৫টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীরা তাদের হারানো মোবাইল ফেরত পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই উদ্যোগের জন্য পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইকবাল হোসাইন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ জসীম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএমসহ সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সদস্যবৃন্দ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।