রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জাবি শিক্ষার্থী শারমিনের মৃত্যুতে কচুয়া শোকের মাতম

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
জাবি শিক্ষার্থী শারমিনের মৃত্যুতে কচুয়া শোকের মাতম

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুরের কচুয়ায় তেতৈয়া গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল শারমিনের। ব্যাগে হয়তো ছিল প্রিয়জনদের জন্য উপহার। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো ঠিকই, তবে নিথর দেহ হয়ে। সাভারের ইসলামনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শারমিন জাহান (খাদিজা) নামে এক শিক্ষার্থী। তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় তার স্বামী সাইফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। নিহত শারমিন জাহান খাদিজা কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। খাদিজা জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।

অপরদিকে তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে। নিহত শারমিন জাহান (খাদিজা) এর কচুয়া উপজেলা তেতৈয়া গ্রামের বাড়িতে বইছে শোকের মাতম।

নিহত খাদিজার মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার মেয়ের জামাই সাইফ উদ্দিন ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ের বাসায় ডাকাতি হয়েছে শারমিনের ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে গেছে। তার মাথায় আঘাত করেছে। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এরপর শুনি আমার মেয়ে আর নেই। আমার দুই মেয়ের মধ্যে শারমিন ছোট মেয়ে। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শারমিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন। আমার মেয়েকে নিষ্ঠুর ভাবে মেরেছে, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

জানা যায়, গত রবিবার বিকালে বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলাম নগর এলাকার কাসেম আলরি বাসা থেকে অচেতন এবং রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে শারমিনকে সাভারে এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Model Hospital

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, এটি স্পষ্টত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে সাইফ উদ্দিন শারমিনের স্বামী পরিচয় দিয়েছেন। সাইফ উদ্দিন আমাদের বলেন, বিকেলে বাসায় ফিরে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। ‘পরে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে শারমিনকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে বাসার বাড়িওয়ালাকে সঙ্গে নিয়ে শারমিনকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বাদ জোহর নামাজের পর পর শারমিনের লাশ নিজ বাড়ি কচুয়া তেতৈয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, শারমিন হত্যার বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।