সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ সভা, ১০টি কমিটি গঠন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
কচুয়ায় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ সভা, ১০টি কমিটি গঠন

কচুয়া উপজেলার কাদলা গ্ৰামে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি মোঃ খায়রুল আবেদীন স্বপন।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের কাদলা গ্রামে মাদকাসক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আলোচনা সভা ও শপথ গ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকালে কাদলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক সরবরাহ ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কাদলা গ্রামের প্রতিটি মহল্লায় একটি করে মোট ১০টি কমিটি গঠন করা হবে। কোনো ব্যক্তি মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিলে তাঁকে দুই হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটির সদস্যরা প্রতি মাসে সভা করবেন, নিয়মিত টহল দেবেন এবং মাদকাসক্তদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন।

Model Hospital

এ ছাড়া মাদকবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে শিশু-কিশোরদের মাগরিবের নামাজের পর ঘরে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক তপাদারের সভাপতিত্বে ও কাদলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. সোহেল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সমাজসেবক আলহাজ আবু বক্কর তোফাদার, ফারুক আহমেদ, ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান মজুমদার, সাবেক ব্যাংকার মাহবুব আলম, আবুল হোসেন, আবু নাসের মিয়া, বশির উল্লাহ রোকন, ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন ও মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সচেতন মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।