রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের চেয়েও বিএনপির আমলে বেশি মারধরের শিকার হয়েছি : আদালতে এনসিপি নেতা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
আওয়ামী লীগের চেয়েও বিএনপির আমলে বেশি মারধরের শিকার হয়েছি : আদালতে এনসিপি নেতা

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় দুদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোতোয়ালি থানার প্রধান সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনকে।

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সময়ের তুলনায় বিএনপির আমলে তিনি বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকার আদালতে শুনানি শেষে আসামিকে দুদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের এসআই জহিরুর ইসলাম তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন বলেন, তার মক্কেলকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হলেও হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

Model Hospital

তবে শুনানি শেষে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আরিফ রেজা।

পরে আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামি আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আমাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন, ভাঙচুর করেছেন এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় হামলার শিকার হয়েছি। তবে বর্তমান সময়ে সেই নির্যাতন আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, নিজের মতপ্রকাশ করাকে তিনি বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে মনে করেন। একই সঙ্গে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

আদালতে নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি এনসিপির কোতোয়ালি থানার প্রধান সমন্বয়ক এবং দলের অধিকাংশ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে একদল ব্যক্তি তেজগাঁওয়ে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। এতে ভবনের বিভিন্ন অবকাঠামো, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও নগদ অর্থের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর ডেইলি স্টারের হেড অব অপারেশনস মিজানুর রহমান তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

একই দিনে প্রথম আলোর কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। সেই মামলায় এর আগে আনোয়ার হোসেনকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।