রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মাটি ‘না পেয়ে’ দাফন না করে ভেলায় ভাসছে মরদেহ, ইউএনও বলছেন ‘ভিউ ব্যবসা’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
মাটি ‘না পেয়ে’ দাফন না করে ভেলায় ভাসছে মরদেহ, ইউএনও বলছেন ‘ভিউ ব্যবসা’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যার পানির মধ্যে ভেলায় একটি মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত ব্যক্তি হলেন কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি কলাগাছের তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলায় সাদা কাফনে জড়ানো একটি মরদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে সেটিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দাফনের সংকটের চিত্র হিসেবে প্রচার করা শুরু হয়।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভেলায় মরদেহ বহনের ঘটনাটি সত্য হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন করাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির চারপাশসহ পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার স্বাভাবিক কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

Model Hospital

আশপাশে দাফনের উপযোগী শুকনো জায়গাও পাওয়া যায়নি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকটি কলাগাছ দিয়ে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলায় মরদেহটি কবরস্থানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি সত্য, তবে ভিডিওটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান। তখন সেখানে কোনো নৌকা ছিল না। তারা যে ভেলায় মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে জানাজা শেষে স্বাভাবিক নিয়মে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইউএনও বলেন, ভিডিওটি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যেন বন্যার কারণে মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা ছিল না। প্রকৃতপক্ষে এমন কিছু ঘটেনি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ভিউ ব্যবসা” বাড়ানোর উদ্দেশে ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অলরেডি ফ্যাক্ট-চেক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, সাতকানিয়ায় বন্যাকে কেন্দ্র করে আরও তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও জানান, উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি কবরস্থানের কয়েকটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেখান থেকে সরে যাওয়া তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা অন্য একটি নিরাপদ কবরস্থানে পুনরায় দাফন করেন।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাবো : কবির চোকদার

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদরের ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির হোসেন চোকদার দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন বংশের মুরব্বিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়ালনগর পাটোয়ারী বাজার মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজরাজেশ্বর প্রধানীয়া বংশীয় মুরব্বি হাজী কাদির প্রধানীয়ার সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চোকদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী দেওয়ান, এলাকার মুরব্বি কাদির প্রধানীয়া, মোহাম্মদ মিজি, সাইদ দেওয়ান, আব্দুল বেপারী, আমু ঢালী, আলমগীর মাল, শফিকুল কুড়ালী, জাহাঙ্গীর সরকার, আবু বকর পাটোয়ারী, আবুল বকাউল, রহমান প্রধানিয়া, নাসির রাঢ়ি, নবীর দেওয়ান, সেকুল দেওয়ান, এবাদুল্লাহ দেওয়ান, হুমায়ুন বেপারী, ফজল সরকার, মুকবুল আসামি, মানিক ভুঁইয়া, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মিজি, ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবুল প্রধানীয়া, ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি হানিফ ঢালী, ৪নং ওয়ার্ডে সভাপতি সেকুল বেপারী, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মাল, ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরকার, ৭নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাফেজ দেওয়ানা, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাচ্চু বেপারী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে আমরা একজন সৎ, আদর্শবান এবং দক্ষ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চাই। যিনি এই ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। সেই নেতৃত্বের সকল গুণাবলী আমরা ওই এলাকার কৃতি সন্তান কবির হোসেন চৌকদারের ভেতরে দেখছি। আমরা বিশ্বাস করি তিনি বাবা মায়ের মতোই একজন জনবান্ধব এবং যোগ্য জনপ্রতিনিধি হবেন। তাই দলের প্রতি অনুরোধ করবো আগামী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাকে যেন দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

কবির হোসেন চোকদার তার বক্তব্যে বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আজ পর্যন্ত তারা কেউ এলাকা ছেড়ে যাননি। আমিও আমার বাবা-মায়ের আদর্শকে ধারণ করে এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের দীর্ঘ সময় পাশে ছিলাম। জনপ্রতিনিধি হই বা না হই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এলাকায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাব।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে স্বক্রিয় ছিলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমার দল আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করবে। এরপরে দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নিবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই আমি সামাজিক কাজ করে যাব। আমাদের অভিভাবক চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গডে তোলার এই অগ্রযাত্রায় আমিও একজন সারথী হতে চাই। এজন্য আমি আপনাদের দোয়া, সমর্থন এবং ভালোবাসা কামনা করছি।

সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব এবং এলাকার মুরুব্বীরা উপস্থিত ছিলেন।