বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪টি দোকান পুড়ে ছাই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪টি দোকান পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানের চিত্র।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র গৃদকালিন্দিয়া বাজারের ‘মুদি গলি’তে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আগুনে ৪ টি দোকান সম্পুর্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং পাশের তিনটি দোকানের আংশিক ক্ষতিগ্রস্তসড় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ১২ জনের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী টানা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার দিকে ‘শহীদ সু স্টোর’ নামক জুতার দোকান থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী ‘আদর্শ ফার্মেসি’তে ছড়িয়ে পড়ে। একে একে তা পাশের মনিরের মুদি দোকান ও মাইনউদ্দিনের মুদি দোকানকে গ্রাস করে ফেলে। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে পার্শ্ববর্তী রফিকের মুদি দোকান, নেছার আহমেদের মুদি দোকান ও ফরিদ ডাক্তারের ঔষধের দোকান কিছু অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সর্বস্ব হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘আদর্শ ফার্মেসি’র মালিক টুটুল চন্দ্র শীল বলেন, আমরা দুই ভাই বহু কষ্টের উপার্জনে এই ফার্মেসিটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আগুনে আজ আমাদের একেবারে পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে। ফার্মেসির প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ওষুধ ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
একই ঘটনায় ‘শহীদ সু স্টোর’ এর স্বত্বাধিকারী জানান, ঘটনার সময় তিনি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। দোকান বন্ধ থাকলেও অগ্নিকাণ্ডে তাঁর ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া মো. মনিরের মুদি দোকান ৫ লাখ ও মাইনউদ্দিনের মুদি দোকানের প্রায় ৫ লাখ টাকা করে মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
গৃদকালিন্দিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জামাল বলেন,  ডাক- চিৎকার শুনে দ্রুত বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করি। আল্লাহ এই বাজারটিকে অল্পের জন্য রক্ষা করেছেন। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে আধা ঘণ্টা দেরি করলে কোটি কোটি টাকার সম্পদসহ অর্ধশত দোকান ছাই হয়ে যেত। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ, বিদ্যুতের পুরোনো তার ও সুইচ-সকেট দ্রুত পরীক্ষা করুণ, সামান্য অসাবধানতা যেন এত বড় বিপদের কারণ না হয়।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের লিডার রবিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় শত কোটি টাকার বাজার রক্ষা পেয়েছে।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় প্রধান অতিথি সদর (ইউএনও) এস.এম.এন জামিউল হিকমার নেত্বৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘চোখের যত্ন নিন, দৃষ্টিকে সুরক্ষিত রাখুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
সাধারণ মানুষের মধ্যে চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দৃষ্টি সমস্যা প্রতিরোধ, বিভিন্ন চক্ষুরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
দিবসের শুরুতে চাঁদপুর সদর উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, চক্ষুরোগ প্রতিরোধ ও অন্ধত্ব প্রতিরোধের বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

র‍্যালি শেষে সদর উপজেলা কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম.এন জামিউল হিকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাভাবিক ও সুস্থ কর্মক্ষম জীবনের জন্য সুস্থ দৃষ্টিশক্তি অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিশুদের জন্মগত ও বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা, চোখের ছানি, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে মানুষের দৃষ্টি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং নিয়মিত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এসব কারণে সৃষ্ট অন্ধত্বের সিংহভাগই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, চোখে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা সমস্যা দেখা দিলে ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছেমতো ড্রপ বা ওষুধ কিনে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চোখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বয়স্কদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত চোখের জটিলতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত অনেক জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Model Hospital

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, ব্র্যাক জেলা স্বমন্বয়ক মোঃ জিয়াউর রহমান, ব্র্যাক চাঁদপুর জেলা ব্যবস্থাপক (স্বাস্থ্য কর্মসূচি) গোলাম মোস্তফা, এলাকা ব্যবস্থাপক ( ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি) লিটন কুমার মল্লিক, এবং ব্র্যাক চাঁদপুর সদর প্রোগ্রাম অফিসার আলমগীর হোসেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ফিল্ড অর্গানাইজার জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী।