শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে খাজা আহসান পাটওয়ারী

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে খাজা আহসান পাটওয়ারী
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের দুই যুবকের বাড়িতে গিয়ে শোক জানান মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা আহসান পাটওয়ারী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে প্রথমে ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড করবন্দ বকাউল বাড়িতে গিয়ে নিহত সোহেল বকাউলের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন সমবেদনা জানান। এসময় সোহেল বকাউলের বড় ভাই কুদ্দুস বকাউল খাজা আহসান পাটওয়ারীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে একইদিন রাতে ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পিংড়া এলাকায় নিহত খায়রুজ্জামান পিপুল এর বাড়িতে গিয়েও তার পরিবারের সকল সদস্যকে সমবেদনা জানান খাজা আহসান পাটওয়ারী সহ দলীয় অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
খাজা আহসান পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শাহআলম মিজি, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  সাংবাদিক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম মিজি, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তপাদার, সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম বকাউল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা মোশাররফ, মমিন মিজি, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মোজাম্মেল হক খান, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত গাজী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইমরান তপাদার, মোঃ হাসান, পাভেল, আবুল কালাম সহ উপাদী দক্ষিণ ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, তিনশ ষাট আউলিয়ার জেলা সিলেটের অপার সৌন্দর্য দেখার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের দুই পর্যটক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আটজন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড করবন্দ গ্রামের হাসিম বকাউলের ছেলে মোঃ সোহেল বকাউল (৩৬) এবং অপর নিহত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পিংড়া গ্রামের খালেক সরকারের ছেলে মোঃ খায়রুজ্জামান পিপুল (৪৫)।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোহেল এর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই শেরপুর হাইওয়ে থানা থেকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ফেরার কথা রয়েছে। এবং শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
অপরদিকে নিহত খায়রুজ্জামান পিপুল এর মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বাড়িতে আনা হবে জানা যায়। তবে মামলার বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।