বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পানির যত্নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর; চাঁদপুরে ভার্চুয়াল সভায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২, ১:৪১ পিএম
পানির যত্নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর; চাঁদপুরে ভার্চুয়াল সভায়
সজীব খান : পানি অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পানি সম্পদ অপচয় করলে কোনো সম্পদই থাকে না শেষ পর্যন্ত।
সোমবার (৪ এপ্রিল) গ্রিন রোডের পানি ভবনে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে অমূল্য সম্পদটা রয়েছে, এটা কীভাবে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করবো এবং ভবিষ্যত বংশধররা ব্যবহার করতে পারবে। সেই দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পরিশুদ্ধ করে পাইপে পানি সরবরাহ করে থাকি। এগুলো করতে অনেক খরচ হয়। তাই পানির অপচয়টা বন্ধ করতে হবে। সেটা নির্মাণ কাজে হোক, গৃহস্থালি কাজে হোক বা সেই গাড়ি ধোয়ার কাজেই হোক, যে কাজেই হোক, লন্ড্রি ব্যবহারে হোক, সবক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি যাতে ভূগর্ভে যেতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি রেখেই পরিকল্পনা নিতে হবে। সব জায়গায় সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দিলাম, আর বৃষ্টির পানি গড়িয়ে চলে গেলো, সেটা না। বৃষ্টির পানি একাভারে আন্ডারগ্রাউন্ডে একেবারে নদীতে পড়বে, সেটা না। আমাদের আশপাশের জলাধারে সংরক্ষণ করতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগলিক ও ভূপ্রকৃতি অবস্থার বিবেচনা করে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই দেশ আমাদের, মাটি আমাদের, মানুষ আমাদের। তাদের কল্যাণ ও মঙ্গল কিসে হয়। শুধু আজকের জন্য না, ভবিষ্যতে এ দেশ যাতে উন্নত ও সমৃদ্ধ থাকে। পানির অপর নাম জীবন। তাই এই পানি সম্পদকে রক্ষা করা একান্তভাবে প্রয়োজন। আর ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যায়, ভূ-উপরিস্থ পানি যত বেশি ব্যবহার করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।
নগরায়ন ও বাসস্থান নির্মাণের জন্য দুটি জিনিসের প্রতি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা, আরেকটা হচ্ছে জলাধার থাকা। এটা থাকা একান্ত প্রয়োজন, সেখানেও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রকৃত পক্ষে মিঠা পানির দেশ। তারপরও জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি-৬ বাস্তবায়নের দিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সুপ্রিয় পানি ব্যবস্থা এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এসডিজি-৬’র সবথেকে বড় লক্ষ্য। ইতোমধ্যে স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে আমরা ৯৭ ভাগ সাফল্য অর্জন করেছি। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সারাদেশেই স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশ্য মলমূত্র ত্যাগ কমই দেখা যায়, সেটা নেই। সেই দিক থেকে আমরা যথেষ্ট অগ্রগামী।
চাঁদপুরে বিশ্ব পানি দিবসের র‌্যালীতে উপস্থিত জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশসহ অন্যান্যরা।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে সুপেয় পানি পাওয়া কষ্টকর। কিন্তু আমাদের বিশাল পানি সম্পদ রয়েছে। আমাদের এই সম্পদ যদি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারি, আমাদের দেশের মানুষের এই কষ্টটা হবে না। আমরা বিশ্বকে পানি সরবরাহ করতে পারবো। সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় নদীর পানি পরিশুদ্ধ করে সরবরাহ করা শুরু করেছি। ঠিক সেইভাবে জেলা ও উপজেলায় যেখানে লাইনের মাধ্যমে সুপ্রিয় পানি দিচ্ছি, সেখানেও নদীর পানি পরিশুদ্ধ করে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে বন্যা হয়, সেখানে অনেক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার জন্য আমরা ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সেটা শুধু নদীর নাব্যতাই বাড়াবে না, নৌপথগুলো সচল হবে। স্বল্পমূল্যে পণ্য পরিবহন করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমে যাবে। বাংলাদেশের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি বেশি ব্যবহার করার ক্ষতি হবে। কারণ, বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ একটি জায়গা। এই পানি আমাদের রক্ষা করে। বাংলাদেশের নিচে শিলা আছে, তার নিচে আরও বিশাল পানির স্তর আছে। এটাই আমাদের রক্ষা করছে। সেখানে আমরা ভূগর্ভস্থ পানি বেশি ব্যবহার করলে ভূমিকম্পন হওয়ার সম্ভবনা বেশি দেখা দেবে।
বর্ষা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীগুলো দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এতে নদীর বিশালতা ও চওড়া বেড়ে গেছে। এত চওড়া নদী আমাদের প্রয়োজন নাই। এখানে বিভিন্ন পকেট তৈরি করে, নদী ড্রেজিং করা পলি সেখানে ফেলে ভূমি উত্তোলন করতে পারি।
ড্রেজিং করা পলির কারণে চাষ উপযোগী জমি যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জলবদ্ধতা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোন নির্মাণ হবে এবং প্ল্যান্ট ও প্রোগ্রাম হবে। তখন মাথায় রাখতে হবে যে, বন্যার সময় যাতে পানি বহমান থাকে এবং পানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে দেখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বন্যার সময় পানির ধারণ ক্ষমতা যেন থাকে। নদী ড্রেজিংয়ের সময় নদীর নাব্যতা বাড়াবে। আবার বন্যার সময় বাফার জোন রেখে দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে পারে। যেটা আমরা শীতকালে ব্যবহার করতে পারি।
বন্যার সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে। একে আপন করতে হবে। বন্যার সময় বসবাসের পদ্ধতি আমাদের শিখতে হবে। কারণ বাংলাদেশ ব-দ্বীপ বন্যার সময় পলি পড়ে আমাদের…। জলবায়ুর অভিঘাতের কারণে আমাদের দেশ ও ছোট ছোট দ্বীপগুলোতে লাগছে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব পানি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভায়  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল, সদর সার্কেল আসিফ মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital