ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন (পর্ব ছয়)

::: কাজী শাহাদাত :::

Model Hospital

॥ ছয় ॥

চাঁদপুরের দ্বিতীয় জেলা প্রশাসক এসএম শামসুল আলম কর্তৃক চাঁদপুর শহরে সম্পাদিত অনেক সৃজনশীল কাজের অন্যতম হচ্ছে সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর। তিনি ১৯৮৬ সালের ৬ জুলাই এই একাডেমী প্রতিষ্ঠার ঘোষণার অনেকটা অব্যবহিত পরেই এটির অফিস হিসেবে মিশন রোডস্থ ‘গিরিধাম’ ভবনের দোতলা বরাদ্দ দেন। জেলা প্রশাসনের আওতাধীন এ পুরানো ভবনটির নিচতলা প্রথমত এক পুলিশ কর্মকর্তার ও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্টেন্টের এবং দোতলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো।

দোতলাটি খালি হবার সাথে সাথেই জেলা প্রশাসক এটিকে সাহিত্য একাডেমীর অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্যে বরাদ্দ দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন নি। তিনি এই একাডেমীর নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্যে হাসান আলী হাই স্কুল মাঠের পাশর্^স্থ চিশতিয়া জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে প্রয়োজনীয় সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেন। মসজিদের মুসুল্লিদের কে বা কারা বলে যে, এখানে হবে গান-বাদ্য-বাজনার ভবন। আর যায় কোথায়। মসজিদের তৎকালীন মোতাওয়াল্লী অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক চৌধুরী মুসুল্লিদের নিয়ে মিছিল করে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন। এতে জেলা প্রশাসক ভড়কে যান। তিনি উক্ত জায়গার বরাদ্দ বাতিল করে তাঁর স্ত্রী কবি সাবিনা আলমের পছন্দে সাহিত্য একাডেমী ভবন নির্মাণে সাত শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দেন চাঁদপুর শহরের জে. এম. সেনগুপ্ত রোডস্থ জোড় পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে। এ জায়গাটি জেলা স্কাউটস্ ভবন নির্মাণের জন্যে পূর্বে বরাদ্দ দেয়া হলেও সেটি বাতিল করা হয়। পরিবর্তিত স্থান হিসেবে কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে জেলা স্কাউটস্কে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্যে তৎকালীন জেলা স্কাউটস্ সম্পাদক সফিউল্লাহ মনে দুঃখ পান। কিন্তু কী আর করা। জেলা প্রশাসকের ইচ্ছে বলে কথা।

জোড় পুকুরের জলছোঁয়া বাতাসে ঋদ্ধ সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর উক্ত পুকুর পাড়ে নূতন জায়গা বরাদ্দ পেলেও নূতন সমস্যা দেখা দিলো। এই জায়গা লাগোয়া মসজিদের মুসুল্লিরা খেপে গেলো। কেননা তারা জানতে পেরেছে, এ জায়গায় সাহিত্য একাডেমীর ভবন হলে গান-বাদ্য-বাজনা হবে। তারাও চিশতিয়া জামে মসজিদের মুসুল্লিদের ন্যায় মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট গেলেন এবং স্মারকলিপি দিলেন। জেলা প্রশাসক বুঝে ফেললেন, সরকারি জায়গা বরাদ্দ নিতে না পারা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাহিত্য একাডেমীর পেছনে লেগেছে। অতএব, মুসুল্লিদের সাথে বসে তাদের ভুল ভাঙ্গাতে হবে। তিনি তা-ই করলেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, শিল্পকলা একাডেমীতে গান-বাজনা হতে পারে, তবে সাহিত্য একাডেমীতে নয়। তিনি ওই সভায় উপস্থিত মহাপরিচালক অধ্যাপক কবি খুরশেদুল ইসলামকে নির্দেশনা দিয়ে বললেন, গান-বাজনা তো নয়ই, এমনকি সাহিত্য একাডেমীর কোনো অনুষ্ঠানের মাইকও মসজিদের দিতে তাক করে কখনো লাগানো যাবে না। এই সুস্পষ্ট নির্দেশনায় মুসুল্লিরা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেলে জেলা প্রশাসক বরাদ্দকৃত নিচু জায়গা ভরাটের জন্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ে গম/চালের জন্যে মহাপরিচালককে দিয়ে আবেদন করালেন। তাতে মিললো সাড়া। তৎকালীন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মাস্টার ২০০ মণ বরাদ্দ দিলেন।

এজন্যে মাস্টার রোল ফরম পূরণসহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে গিয়ে একাডেমীর তৎকালীন প্রধান সম্পাদক হিসেবে আমাকে হতে হয়েছে গলদঘর্ম। এরই মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েক বান্ডেল টিনও পাওয়া গেলো। তবে সেটি আনতে হবে ঢাকার মহাখালীস্থ গোডাউন থেকে। রমজানের দিনে রাত ৯টার মিতালী লঞ্চযোগে ঢাকা যেতে হয়। তখন লঞ্চে চা-নাস্তা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাহ্রী খাওয়ার ব্যবস্থা ছিলো না। তাই রোজা না রেখে ওই টিনগুলো নিয়ে চাঁদপুরে ফিরতে হলো। কিন্তু এগুলো রাখবো কোথায়? চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারীর সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকায় এই স্টেশনের গোডাউনে টিনগুলো বিনা ভাড়ায় রাখার সুযোগ পাওয়া যায় এবং এখান থেকেই সেগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়।

এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক কখন যে সাহিত্য একাডেমীর ভবন নির্মাণের জন্যে জেলা পরিষদে প্রকল্প দাখিল করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ে তদবির চালিয়ে সফলও হয়েছেন, সেটা আমার জানা ছিলো না। সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যে জোড় পুকুর পাড়ের জায়গায় ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হলো। দরপত্রে অংশ নিয়ে এ কাজ পান ফরিদগঞ্জের জনৈক সামছুল আলম, যিনি ছিলেন দৈনিক জনতার জেনারেল ম্যানেজার এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাগ্নি জামাই। তিনি কাজটি সরাসরি নিজে না করে সাব কন্ট্রাক্টে আরেকজনকে করতে দিয়েছিলেন। সাব কন্ট্রাক্টর অধিক লাভের আশায় নিম্নমানের কাজ করতে গেলেই আমিসহ সাহিত্য একাডেমীর তৎকালীন নির্বাহী পরিষদে সংশ্লিষ্ট একেএম সলিম উল্যা সেলিম, শাহজাহান সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানসহ আরো ক’জন বাধা প্রদান করি। এমন বাধায় রুষ্ট হন মূল ঠিকাদার সামছুল আলম। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাহী পরিষদে আমরা যাতে থাকতে না পারি সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। এ অনুরোধ বা অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে হোক, আমরা উপরোক্ত সকলে দু’বছরের মাথায় সাহিত্য একাডেমীর পুনর্গঠিত নির্বাহী পরিষদে স্থান পাইনি। এমনকি আমি মহাপরিচালকের নির্দেশে নিজ হাতে গঠনতন্ত্র লিখলেও গঠনতন্ত্র চূড়ান্তকরণ কমিটিতে পর্যন্ত স্থান পাইনি। দ্বিতীয় দফা নির্বাহী পরিষদ গঠনের পর ১৯৮৮ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আলী হায়দার খান সাহিত্য একাডেমী ভবন উদ্বোধন করেন।

নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এক যুগের মধ্যে এ ভবনটি জীর্ণতায় আক্রান্ত হয়। একাডেমীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালনকারী জেলা প্রশাসকদের অনুরোধে জেলা পরিষদ থেকে মেরামত বাবদ ২-১ বছর পর পর এক লাখ টাকা করে অনুদান পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব নিলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন জেলা পরিষদের ২ লাখ টাকার অনুদানে সাহিত্য একাডেমী ভবনের বড় ধরনের মেরামত সম্পন্ন করান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল প্রদান করেন। জেলা পরিষদের সবচে’ বড় বরাদ্দ পাওয়া যায় জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সময়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরে। চার লাখ টাকার বরাদ্দে অফিস ও হলরুমে টাইলসের কাজ, আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তাঁর বদলির পর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ভবন সংস্কারে বরাদ্দ দেন এক লাখ টাকা, যেটির কাজ বর্তমানে চলমান।

সংস্কারের পর সাহিত্য একাডেমী হলরুমটি এখন একাডেমীর নিজস্ব অনুষ্ঠান ছাড়াও ছোটখাট অনুষ্ঠানের জন্যে চাঁদপুরের সাহিত্য সংগঠনসহ অন্য সংগঠনগুলো এক বেলা সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা অর্থাৎ নামমাত্র ভাড়ায় ব্যবহার করার সুযোগ যাচ্ছে। (চলবে)

ট্যাগস :

কেক কাটার মধ্য দিয়ে “প্রিয় চাঁদপুর” এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন (পর্ব ছয়)

আপডেট সময় : ০২:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২

::: কাজী শাহাদাত :::

Model Hospital

॥ ছয় ॥

চাঁদপুরের দ্বিতীয় জেলা প্রশাসক এসএম শামসুল আলম কর্তৃক চাঁদপুর শহরে সম্পাদিত অনেক সৃজনশীল কাজের অন্যতম হচ্ছে সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর। তিনি ১৯৮৬ সালের ৬ জুলাই এই একাডেমী প্রতিষ্ঠার ঘোষণার অনেকটা অব্যবহিত পরেই এটির অফিস হিসেবে মিশন রোডস্থ ‘গিরিধাম’ ভবনের দোতলা বরাদ্দ দেন। জেলা প্রশাসনের আওতাধীন এ পুরানো ভবনটির নিচতলা প্রথমত এক পুলিশ কর্মকর্তার ও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্টেন্টের এবং দোতলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো।

দোতলাটি খালি হবার সাথে সাথেই জেলা প্রশাসক এটিকে সাহিত্য একাডেমীর অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্যে বরাদ্দ দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন নি। তিনি এই একাডেমীর নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্যে হাসান আলী হাই স্কুল মাঠের পাশর্^স্থ চিশতিয়া জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে প্রয়োজনীয় সরকারি জায়গা বরাদ্দ দেন। মসজিদের মুসুল্লিদের কে বা কারা বলে যে, এখানে হবে গান-বাদ্য-বাজনার ভবন। আর যায় কোথায়। মসজিদের তৎকালীন মোতাওয়াল্লী অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক চৌধুরী মুসুল্লিদের নিয়ে মিছিল করে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেন। এতে জেলা প্রশাসক ভড়কে যান। তিনি উক্ত জায়গার বরাদ্দ বাতিল করে তাঁর স্ত্রী কবি সাবিনা আলমের পছন্দে সাহিত্য একাডেমী ভবন নির্মাণে সাত শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দেন চাঁদপুর শহরের জে. এম. সেনগুপ্ত রোডস্থ জোড় পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে। এ জায়গাটি জেলা স্কাউটস্ ভবন নির্মাণের জন্যে পূর্বে বরাদ্দ দেয়া হলেও সেটি বাতিল করা হয়। পরিবর্তিত স্থান হিসেবে কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে জেলা স্কাউটস্কে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্যে তৎকালীন জেলা স্কাউটস্ সম্পাদক সফিউল্লাহ মনে দুঃখ পান। কিন্তু কী আর করা। জেলা প্রশাসকের ইচ্ছে বলে কথা।

জোড় পুকুরের জলছোঁয়া বাতাসে ঋদ্ধ সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর উক্ত পুকুর পাড়ে নূতন জায়গা বরাদ্দ পেলেও নূতন সমস্যা দেখা দিলো। এই জায়গা লাগোয়া মসজিদের মুসুল্লিরা খেপে গেলো। কেননা তারা জানতে পেরেছে, এ জায়গায় সাহিত্য একাডেমীর ভবন হলে গান-বাদ্য-বাজনা হবে। তারাও চিশতিয়া জামে মসজিদের মুসুল্লিদের ন্যায় মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট গেলেন এবং স্মারকলিপি দিলেন। জেলা প্রশাসক বুঝে ফেললেন, সরকারি জায়গা বরাদ্দ নিতে না পারা কোনো স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাহিত্য একাডেমীর পেছনে লেগেছে। অতএব, মুসুল্লিদের সাথে বসে তাদের ভুল ভাঙ্গাতে হবে। তিনি তা-ই করলেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বললেন, শিল্পকলা একাডেমীতে গান-বাজনা হতে পারে, তবে সাহিত্য একাডেমীতে নয়। তিনি ওই সভায় উপস্থিত মহাপরিচালক অধ্যাপক কবি খুরশেদুল ইসলামকে নির্দেশনা দিয়ে বললেন, গান-বাজনা তো নয়ই, এমনকি সাহিত্য একাডেমীর কোনো অনুষ্ঠানের মাইকও মসজিদের দিতে তাক করে কখনো লাগানো যাবে না। এই সুস্পষ্ট নির্দেশনায় মুসুল্লিরা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেলে জেলা প্রশাসক বরাদ্দকৃত নিচু জায়গা ভরাটের জন্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ে গম/চালের জন্যে মহাপরিচালককে দিয়ে আবেদন করালেন। তাতে মিললো সাড়া। তৎকালীন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মাস্টার ২০০ মণ বরাদ্দ দিলেন।

এজন্যে মাস্টার রোল ফরম পূরণসহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে গিয়ে একাডেমীর তৎকালীন প্রধান সম্পাদক হিসেবে আমাকে হতে হয়েছে গলদঘর্ম। এরই মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েক বান্ডেল টিনও পাওয়া গেলো। তবে সেটি আনতে হবে ঢাকার মহাখালীস্থ গোডাউন থেকে। রমজানের দিনে রাত ৯টার মিতালী লঞ্চযোগে ঢাকা যেতে হয়। তখন লঞ্চে চা-নাস্তা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাহ্রী খাওয়ার ব্যবস্থা ছিলো না। তাই রোজা না রেখে ওই টিনগুলো নিয়ে চাঁদপুরে ফিরতে হলো। কিন্তু এগুলো রাখবো কোথায়? চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারীর সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকায় এই স্টেশনের গোডাউনে টিনগুলো বিনা ভাড়ায় রাখার সুযোগ পাওয়া যায় এবং এখান থেকেই সেগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়।

এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক কখন যে সাহিত্য একাডেমীর ভবন নির্মাণের জন্যে জেলা পরিষদে প্রকল্প দাখিল করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ে তদবির চালিয়ে সফলও হয়েছেন, সেটা আমার জানা ছিলো না। সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যে জোড় পুকুর পাড়ের জায়গায় ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হলো। দরপত্রে অংশ নিয়ে এ কাজ পান ফরিদগঞ্জের জনৈক সামছুল আলম, যিনি ছিলেন দৈনিক জনতার জেনারেল ম্যানেজার এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাগ্নি জামাই। তিনি কাজটি সরাসরি নিজে না করে সাব কন্ট্রাক্টে আরেকজনকে করতে দিয়েছিলেন। সাব কন্ট্রাক্টর অধিক লাভের আশায় নিম্নমানের কাজ করতে গেলেই আমিসহ সাহিত্য একাডেমীর তৎকালীন নির্বাহী পরিষদে সংশ্লিষ্ট একেএম সলিম উল্যা সেলিম, শাহজাহান সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানসহ আরো ক’জন বাধা প্রদান করি। এমন বাধায় রুষ্ট হন মূল ঠিকাদার সামছুল আলম। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাহী পরিষদে আমরা যাতে থাকতে না পারি সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। এ অনুরোধ বা অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে হোক, আমরা উপরোক্ত সকলে দু’বছরের মাথায় সাহিত্য একাডেমীর পুনর্গঠিত নির্বাহী পরিষদে স্থান পাইনি। এমনকি আমি মহাপরিচালকের নির্দেশে নিজ হাতে গঠনতন্ত্র লিখলেও গঠনতন্ত্র চূড়ান্তকরণ কমিটিতে পর্যন্ত স্থান পাইনি। দ্বিতীয় দফা নির্বাহী পরিষদ গঠনের পর ১৯৮৮ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আলী হায়দার খান সাহিত্য একাডেমী ভবন উদ্বোধন করেন।

নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এক যুগের মধ্যে এ ভবনটি জীর্ণতায় আক্রান্ত হয়। একাডেমীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালনকারী জেলা প্রশাসকদের অনুরোধে জেলা পরিষদ থেকে মেরামত বাবদ ২-১ বছর পর পর এক লাখ টাকা করে অনুদান পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব নিলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন জেলা পরিষদের ২ লাখ টাকার অনুদানে সাহিত্য একাডেমী ভবনের বড় ধরনের মেরামত সম্পন্ন করান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল প্রদান করেন। জেলা পরিষদের সবচে’ বড় বরাদ্দ পাওয়া যায় জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সময়ে ২০২০-২১ অর্থ বছরে। চার লাখ টাকার বরাদ্দে অফিস ও হলরুমে টাইলসের কাজ, আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তাঁর বদলির পর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ভবন সংস্কারে বরাদ্দ দেন এক লাখ টাকা, যেটির কাজ বর্তমানে চলমান।

সংস্কারের পর সাহিত্য একাডেমী হলরুমটি এখন একাডেমীর নিজস্ব অনুষ্ঠান ছাড়াও ছোটখাট অনুষ্ঠানের জন্যে চাঁদপুরের সাহিত্য সংগঠনসহ অন্য সংগঠনগুলো এক বেলা সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা অর্থাৎ নামমাত্র ভাড়ায় ব্যবহার করার সুযোগ যাচ্ছে। (চলবে)