শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে হুশিয়ারি

রোববার সকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এস. এম ইকবাল : গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
১৬ জানুয়ারি রোববার সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ১ নং বালিথুবা পশ্চিম  ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাহার, ২ নং বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জি এম হাসান তাবাচ্ছুম, ৪ নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ পারভেজ হোসেন, ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গনি পাটওয়ারী, ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন, ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল চৌধুরী এবং ১৫ নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওমর ফারুক ফারুকী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, নাছির উদ্দিন পাঠান, বর্তমান সহ-সভাপতি আমান উল্লাহ আমান, কার্যনির্বাহী সদস্য নারায়ন রবিদাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল হাসানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
প্রার্থীরা তাদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে বলেন, গত ৫ ই জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন খন্দকার মােশতাকের নব্য অনুসারী কোন গােষ্ঠীর ইশারা ইঙ্গিতে স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা মার্কাকে হারানাের ঘৃন্য যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে আমাদের মনে হয়। তাদের অতি উৎসাহি কর্মকান্ড, কথা বার্তা, আচার- আচরন এবং দায়িত্ব পালনে জনমনে সেই সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা কালীন সময়ে আমরা যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিলাম সেসব বিষয়ে আপনারা অবগত আছেন। যে সকল প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে সর্বস্তরের আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহযােগিতা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা কেবলমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে তাদের ব্যক্তিগত অনুসারীদেরকে নৌকার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।  অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অনুসারীদের দিয়ে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে।
আমরা দেখেছি যে, জেলা পর্যায়ের বিশেষ মহলের ইন্দনে প্রশাসন নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে নির্বাচনের পূর্ব হতে নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভীতি প্রদর্শন পূর্বক নির্বাচনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন নৌকার এজেন্ট, ব্যাজধারী কর্মীদের মারধর করে ভােট কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়া, আটক করা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের আগের দিন থেকে নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের জনবিরােধী আচরণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখােশে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে নৌকার কর্মীদের নির্বাচনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাঁধাগ্রস্থ করা এবং মনােবল ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রবিমুখ করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কে নৌকার বিরুদ্ধ প্রতীকে ভােট দানে বল প্রয়ােগ করার সুযােগ তৈরি করে দিয়েছে।
আপনারা অবগত আছেন যে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সাবেক শীর্ষ নেতা তথা সাবেক এমপি ড. সামছুল হক ভূঁইয়া নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার জন্য প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েকজন করে বিদ্রোহী  প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাদেরকে এবং স্বতন্ত্র নামে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীদের অবৈধ লক্ষ লক্ষ কালাে টাকা ডােনেশন দিয়ে নৌকাকে পরাজিত করেছেন।
এছাড়াও সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম রােমান প্রকাশ্য সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সরাসরি হুমকি প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সহ তার অনুগত ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীর মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেও ভােটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তার অনুসারী বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে এবং চাঁদপুরের বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। আমরা আরো দেখেছি যে তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার আপন ভাইকে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, নৌকার কর্মীদেরকে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী এবং প্রশাসনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘরছাড়া করেছেন। প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে নৌকার কর্মীদের গ্রেফতারসহ তাদের পরিবার পরিজনকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে নৌকা প্রতীককে নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালান। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে থেকে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা এবং একটি বিশেষ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচনী দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে চাকরি হারানাের ভয় দেখিয়ে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’