শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গজরাকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা হবে : চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ উল্লাহ মাস্টার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ২:২৯ পিএম
গজরাকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা হবে : চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ উল্লাহ মাস্টার

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শহিদ উল্লাহ প্রধান বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি, জেলা শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য, গজরা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি শহীদ উল্লাহ মাস্টার ১৮ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মতলব উত্তরের বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ১৯৬৬ সন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সারথি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

যার ফলশ্রুতিতে আমাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকা প্রতীকে মনোনীত করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

শহীদ উল্লাহ মাস্টার বলেন, আমি ৪৫ বছর শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলাম। মতলব উত্তরের ঐতিহ্যবাহী ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে অবসরপ্রাপ্ত গ্রহণ করেছি। গজরা ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামেই আমার অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তাঁরাই স্বতস্ফুত ভাবে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Model Hospital

শহীদ উল্লাহ মাস্টার আরো বলেন, গজরা ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামে নৌকার গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে, গজরা ইউনিয়নের দলীয় নেতা কর্মী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং,সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো।সে সাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে অসমাপ্ত কাজ গুলো করে যাবো।

তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন,তাঁর সাথে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, বিশেষ করে গজরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হানিফ দর্জি, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদ, মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন প্রধান। তাঁরা সকলেই শহীদ উল্লাহ মাস্টার কে সমর্থন দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন।

ছেংগারচর পৌর সভার প্যানেল মেয়র আব্দুল মান্নান বেপারী বলেন, শহীদ উল্লাহ স্যার আমার আত্মীয় ও শিক্ষা গুরু। তিনি সাদা মনের মানুষ।২৮ তারিখ পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট ভিক্ষা চেয়ে বিজয়ী হয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছেংগারচর পৌর সভার প্যানেল মেয়র আব্দুল মান্নান বেপারী, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম প্রধান, গজরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএম সাইফুল ইসলাম, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুমন বেপারী প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’